জীবন নিয়ে ছিনিমিনি: ৬ মাসের কোর্স করেই এন্টিবায়োটিক দিয়ে জটিল রোগের চিকিৎসা করেন তিনি,অতপর…

২৩ এপ্রিল, ২০২১ : ৪:০৫ অপরাহ্ণ ১২৪১

পারভেজ আল কামাল: সরাইলের পানিশ্বর গ্রামের “নাথ ফার্মেসী”র মালিক অমিত দেবনাথ (ভক্ত) ৬ মাসের RMP কোর্স করেই ডাক্তার বনে গেছেন ওই গ্রামে। ফলে যেকোন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা দিতেও পিছ পা হোননা তিনি। যদিও এই ৬ মাসের কোর্সে শুধু মাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দেয়, কিন্তু অমিত দেবনাথ (ভক্ত) এসবের কোন পরোয়া করেন না। ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন হুমকিতে রয়েছে। এটি শুধু কথার কথা নয়। গত ৮ এপ্রিল ভক্তর ভুল চিকিৎসায় পানিশ্বরের সাইফুল নামে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও মৃতের পরিবারকে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়ার বিনিময়ে বিষটি রফাদফা হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয়টি বর্তমানে অস্বীকার করছে। কিন্তু এই রফাদফার আগে মৃতের পরিবার এটা স্বীকার করেছিল যে, অমিত দেবনাথ (ভক্ত)’র ভুল চিকিৎসায়ই সাইফুল মারা যায়। এবং তারা অস্বীকার করলেও এলাকায় বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে। সবাই বলছেন ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে। মৃত সাইফুল পানিশ্বর ইউনিয়নের শাখাইতি গ্রামের আবু সাইদের ছেলে। তারা এই এলাকায় ভাড়া থাকেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগ নিয়ে সাইফুল ভক্ত’র কাছে গেলে ভক্ত তার শরীরে এন্টিবায়োটিক একটি ইনজেকশন পুশ করে। এর কিছুক্ষণ পরেই সাইফুলের অবস্থা মারাত্নক ভাবে অবনতি হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সাইফুলের অবস্থা অবনতি দেখে সেখানকার ডাক্তাররাও তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে দেয়। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথেই সাইফুলের মৃত্যু হয়।

ছবি: অমিত দেবনাথ ভক্ত

এবিষয়ে মৃত সাইফুলের ভাই মাইনুদ্দিন বলেন, আমার ভাই এমনিতেই মারা গেছে। ভক্ত ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্য মারা যায়নি। তাহলে দেড় লক্ষ টাকা কেন আপনাদেরকে দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা গরিব বলে এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার ও সর্দারগণ আমাদেরকে এই টাকা দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন”।

এবিষয়ে মৃত সাইফুলের বাবার সাথে কথা বলতে চাইলে মাইনুদ্দিন সাংবাদিকদের বাধা দেন।

এবিষয়ে জানতে “নাথ ফার্মেসী”র মালিক অমিত দেবনাথ (ভক্ত)’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদে কাছে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হোননি।

এবিষয়ে পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম তেপান্তরকে জানান, নানা রকম জটিল রোগ নিয়ে সাইফুল ভক্তর কাছে যায়, তাকে এন্টিবায়োটিক ইনকেশন দেয়। তারপর ছেলেটা মারা যায়। এখন ডাক্তারের ভুলেই মারা গেছে কিনা তা আমি বুঝতে পারছিনা। তাহলে এর দায়ভার আমি কেন নিবো? তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মৃত সাইফুলের পরিবারকে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশ হাজার টাকা ইতিমধ্যেই দিয়েছি।

ছবি: মৃত সাইফুল ইসলাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঔষধ প্রশাসনের সহকারি পরিচালক মোঃ শেখ এহসান উল্লাহ তেপান্তরকে জানান, একজন RMP কোর্স করা ব্যক্তি কখনো এন্টিবায়োটিক ঔষধ রোগীকে প্রয়োগ করতে পারবেনা। তিনি শুধু প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুই করতে পারবেন। কেউ যদি RMP কোর্স করে এন্টিবায়োটিক ঔষধ প্রয়োগ করে তাহলে এটা বেআইনি। এবিসয়ে সিভিল সার্জন বা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. একরাম উল্লাহ বলেছেন, এরকম অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।