ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবকারীদের বিচার চেয়ে হেফাজত নেতার পদত্যাগ

২৩ এপ্রিল, ২০২১ : ৪:৫২ অপরাহ্ণ ৩৯৬

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির নেতা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমি। তিনি হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। হেফাজত তাণ্ডব ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে হেফাজতের এই নেতার সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। কিন্তু আকস্মিক তিনি সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যটি জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠান।

লিখিত বক্তব্যে কাসেমি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারেনা। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এ সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিস্ক্রিয় থাকি এবং আমার তত্ত¡াবধানে পরিচালিত সমস্ত মাদরাসাসমূহের শিক্ষক ও ছাত্রদের এ সমস্ত দেশ ও ইসলামবিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করি।

তিনি বলেন, রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আক্রমণ ও ক্ষয়ক্ষতি করা এবং হরতাল চলাকালে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ জানমালের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাতে আমি এবং আমার মাদরাসার কোনো ছাত্র অংশগ্রহণ করেনি। আমি হেফাজতে ইসলামের চলমান কোনো কার্যক্রমের সাথে জড়িত নই। তাদের সকল প্রকার নাশকতামূলক কার্যক্রমকে শরীয়তসম্মতভাবে অবৈধ মনে করি।

তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাতে ইসলামের সকল কার্যক্রম ও জাতীয় এবং জেলা কমিটির পদসমূহ থেকে পদত্যাগ করছি। যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। তিনি আরও বলেন, মতাদর্শগত দ্ব›েদ্বর কারণে গত বছরের ১ ডিসেম্বর তাঁকে মৌখিকভাবে দল ও মাদ্রাসার সব দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। তবে কেন্দ্রীয় বা জেলা হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো বহিষ্কারাদেশ তিনি এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই ঘটনার পর তাঁকে মাদ্রাসা ও হেফাজতের অভ্যন্তরীণ বা সর্বজনীন কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল বা মাহফিল, কোথাও নিমন্ত্রণ জানানো হয়নি। উলে­খ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পৌরসভা কার্যালয়, পৌরমিলনায়তন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ সব ঘটনায় ৫৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলাগুলোতে এজহারনামী আসামির সংখ্যা ৪১৪ জন, আর অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৩৫ হাজারেরও বেশি। এ সব মামলায় গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৩৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হয়েছে জেলা পুলিশ থেকে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।