নবীনগর দড়িলাপাং এর সংঘর্ষের মামলার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে মরিয়া একটি স্বার্থান্বেষী মহল

২৫ এপ্রিল, ২০২১ : ৫:২৩ অপরাহ্ণ ৫৫১

মো. সফর মিয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন এর দড়িলাপাং গ্রামে দীর্ঘ আট মাস যাবত হাকিম মাস্টার গ্রুপ ও জাহের আলী মেম্বার গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। এনিয়ে উভয় পক্ষ মামলা মোকদ্দমা সহ সামাজিক বিচার শালিস করেন। এরই জেরে গত ১৯/০৪/২১ তারিখে জাহের মেম্বার গ্রুপের মুদিমালের দোকানদার আক্তার হোসেন টেঁটা বিদ্ধ হওয়া সহ ১০ জন আহত হয়। এই বিষয়ে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী সাবিকুন্নাহার বাদী হয়ে নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।গত শনিবার উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত দুই নাম্বার আসামি এরশাদ মিয়া গ্রেপ্তার হয়।এরপর থেকে একদল কুচক্রী মহল মামলার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে নানান ভাবে অপ্রচার চালায়। এতে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও তার ভাই মোঃ কাউছার মিয়াকে ফাঁসানের পায়তারা করায় এলাকায় আবারও নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে দু’পক্ষ অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়,গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে হাকিম মাস্টার গ্রুপ আর জাহের মেম্বার গ্রুপের মধ্যে একটি অহেতুক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও থানা প্রশাসন পরপর তিনবার তাদের নিয়ে বসে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। উভয় পক্ষের গাফিলতির কারনে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় গত ১৯/০৪/২১ তারিখে তারা আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে একজনকে টেটা বিদ্ধ সহ উভয় পক্ষ ১০ জন আহত হয়। এই ঘটনাকে পুৃঁজি করে একটি মহল ঐ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও তার ভাই কাউছারের বিরুদ্ধে অপ্রচার চালিয়ে মামলা প্রকৃত ঘটনা বানঞ্চালের চেষ্টা করছেন।

এবিষয়ে একাধিক প্রত্যোহ্মদর্শী বলেন,দীর্ঘ আট মাস ধরে থেমে থেমে আমাদের গ্রামের এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসতেছে , এবং টেঁটা বিদ্ধ সহ ঐদিন ১০ জন আহতের ঘটনায় নবীনগর থানায় মামলা হলে গতকাল উক্ত মামলার এজহারভুক্ত দুই নাম্বার আসামি এরশাদ মিয়া গ্রেপ্তার করেন।এরপর থেকেই একদল কুচক্রী মহল আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার ও তার ভাই কাউছার কে দোষী করে মামলাটি বানঞ্চাল করতে মরিয়ে হয়ে উঠেন। আমাদের সকলের দাবি প্রকৃত দোষীদের বিচার হোক।

এবিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন,আমি নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি গত কয়দিন পূর্বে আমার ইউনিয়নের দড়িলাপং গ্রামে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয় যা খুবই দুঃখজনক। আমি কোন গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত না,আমি ব্যবসায়ি মানুষ ব্যবসার কাজে বেশীরভাগ সময় ভৈরব থাকি।আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ায় কিছু কুচক্রি মহল আমাকে হ্মেয়প্রতিপন্ন করতে আমার ছোট ভাই কাউছারকে এই ঘটনার সাথে জড়ানের চেষ্টা করতেছে, এমনকি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে আমি নাকি আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি। আমি এইসব অপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব,এবং তারই সাথে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অনুরোধ করব বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জেনে সংবাদ প্রচার করতে। আমি নিজেও এই ঘটনার প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।

নবীনগরে দাঙ্গা পরিস্থিতি থেকে কি করে পরিত্রাণ পাওয়া যায় ও নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতিকে বহিস্কৃত সভাপতি বলে যে অপ্রচার চালানো হচ্ছে এই বিষয় মন্তব্য জানতে নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমরা নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ দাঙ্গা নিরসনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন এতে কোন সন্দেহ নাই।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।