প্রসূতির মৃত্যুতে ৩ ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা, লাশ উত্তলনের নির্দেশ

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ : ১:১৫ অপরাহ্ণ ৮৫৯

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ‘ভুল’ চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার ব্রহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটি করেন মৃত নারীর বাবা শিহাব আহম্মদ গেন্দু।

মামলার আসামিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মুন্সেফপাড়ার খ্রিশ্চিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. ডিউক চৌধুরী ও তার ক্লিনিকের দুই চিকিৎসক অরুনেশ্বর পাল এবং মো. শাহাদাৎ হোসেন রাসেল।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে সদর মডেল থানা পুলিশের ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ৪ নভেম্বর খ্রিশ্চিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিসাধীন নওশীন আহম্মদ দিয়ার (২৯) মৃত্যু হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, শহরের মুন্সেফপাড়ার ক্রিসেন্ট কিন্ডারগার্টেনের সহকারী শিক্ষিকা নওশিন আহম্মদ দিয়া প্রসব বেদনা নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর খ্রিশ্চিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে আগাম [সময় হওয়ার আগে] অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি মেয়ে হয় তার। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই দিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ায় হাসপাতালেরই পাশে বাড়িতে নেওয়া হয় তাকে।
অভিযোগ আরও বলা হয়, গত ৪ নভেম্বর ভোরে দিয়ার প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা শুরু হলে তাকে আবার খ্রিশ্চিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ‘ভুল ইনজেকশন ও ওষুধ’ দেওয়ার পর দিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
এজহারে আরও বলা হয়, দিয়ার অজ্ঞান হওয়ার বিষয়টি গোপন করে চিকিৎসার নামে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে দিয়ার মৃত্যু হলেও তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ওইদিন দুপুর একটার দিকে দ্রুত তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে দিয়াকে নিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে পৌঁছার চিকিৎসকরা জানান, কয়েক ঘণ্টা আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
সপরিবারে দেশের বাইরে থাকায় মামলার ব্যপারে ডা. ডিউক চৌধুরীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলন করা হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।