আখাউড়া উপঃ চেয়ারম্যানের ভাতিজার বউ রহস্যজনক ভাবে অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মৃত্যু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

১৯ মে, ২০২১ : ৫:০২ অপরাহ্ণ ৭৬৫

আশরাফুল মামুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভুইয়ার ভাতিজা আনোয়ার পুর গ্রামের বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী কাজল ভূইয়ার স্ত্রী ডলি বেগম (৩৬) রহস্যজনক ভাবে ঈদ উল ফিতরের দিন অগ্নিদ্বগ্ধ হন। তারপর ৪ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার মারা গেছেন। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা এই বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এক পক্ষ বলছে স্বামী কাজল ভূইয়া তার স্ত্রী ডলি কে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অন্যদিকে আরেক পক্ষ বলছে কাজল ভূইয়ার আপন ভাতিজা সায়মন ভূইয়া বাবুর সাথে কাজলের স্ত্রী ডলি বেগমের দীর্ঘদিনধরেই পরকীয়া ছিল, এ ঘটনার সূত্র ধরেই তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো তাই এই কলহের জের ধরে ডলি বেগম তার নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মাহত্যা করেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডলির মরদেহ ঢাকা থেকে আখাউড়ায় আসার পথে রয়েছে এবং এবিষয়ে থানায় এখনও কোন মামলা রেকর্ড হয়নি। নিহত ডলি বেগমের ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ছোট ছেলেটার বয়স মাত্র দেড় বছর। ডলির বড় মেয়ে তামান্না জাহান তিন্নি (২১) মোবাইল ফোনে জানান, আমার মায়ের সাথে আমার আপন চাচাতো ভাই সায়মন ভুইয়া বাবুর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল, কিছুদিন আগের তার সাথেই আমার মা ডলি বেগম পালিয়ে যান , এ বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগ ও দিয়েছি এলাকায় বিচার সালিশও হয়েছে কিন্তু কোন সমাধান হয়নি, এমন কি আমার বিয়ে হয়ে যাবার পরও একদিন বাড়ীতে এসে দেখতে পাই আমার মায়ের সাথে সায়মন ভুইয়া বাবু অবৈধ শারিরীক মেলামেশায় লিপ্ত, তখন আমি রাগ করে বাড়ী থেকে আমার স্বামীর বাড়ীতে চলে যাই। তামান্না জাহান তিন্নি কাঁদতে কাঁদতে আরো বলেন, আমার বাবা আমার মাকে অনেক ভালোবাসতো আমার বাবা কখনোই আমার মায়ের শরীরে আগুন দিতে পারে না, আগুন লাগার পর আমার বাবা গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছে, তার হাতও আগুনে পুড়েছে, বাবুর কারনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেলো, আমার মা রাগে দুঃখে আত্মাহত্যা করেছে, আমি বাবুর বিচার চাই। তবে এঘটনায় বাবু মিয়ার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাবুর আত্মীয় স্বজনরা বলছে এই অভিযোগ সত্য নয়।

এদিকে নিহত ডলি বেগমের ভাই অত্র পৌরসভার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী মোঃ বিল্লাল মিয়া বলেন, আমার বোন ডলি কে আমার বোন জামাই কাজল ভূইয়া আমার সামনেই পিটিয়ে ও পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে আমি কাজলের বিচার চাই।
এবিষয়ে আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মাসুদুল আলম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি অত্র উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে এক গৃহবধূ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছে, আমাদের কাছে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি, আমরাও খোঁজ খবর নিচ্ছি, যথাযথভাবে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।