হেফাজত তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন দ্রুত সংস্কার ও ট্রেন যাত্রাবিরতির দাবী

১ জুন, ২০২১ : ৩:০৬ অপরাহ্ণ ২৩২

তেপান্তর রিপোর্ট: গত ২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের নারকীয় তান্ডবে এখনো ধ্বংসস্তুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বেশী আয়জনক ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন। গত ২৪ মে সারাদেশে ট্রেন চালু হলেও আজও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে থামছে না কোনো ট্রেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হেফাজত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও রেলস্টেশন দ্রুত সংস্কার করে ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করার দাবীতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। এ দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
মঙ্গলবার দুপুরে সচেতন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর ব্যানারে তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শতশত মানুষ অংশ নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি দেশবরেন্য কবি জয়দুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদ খান লাভলু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন,জেলা চেম্বারের সহসভাপতি শাহআলম,পৌরসভার প্যানেল মেয়র হোসনে আরা বাবুল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন,বাসুদেব ইউপি চেয়ারম্যান মোবাশ্বের আলম ভূঞা,তিতাস আবৃত্তি সংগঠন সহকারি পরিচালক বাছির দুলাল,তিতাস সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ সাংগঠনিক সম্পাদক এরফান সুজন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদেন চালানো তান্ডবের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্টেশনে কোনো ট্রেন যাত্রাবিরতি না করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এছাড়াও পূর্বাঞ্চল রেলপথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশন থেকে রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সেজন্য দ্রæত স্টেশনটি সংস্কার করে সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা জরুরী। এছাড়ও তান্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুবারক উল্লাহকে দ্রæত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থির দাবি জানানো হয়। সভায় জানানো হয়,একই দাবীতে আজ বুধবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান সহ আরো নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় ২৭ মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে সকল ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রাবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।