মানবাধিকারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ

১ জুন, ২০২১ : ৫:৩৪ অপরাহ্ণ ৯৩

“মানবিক ও মানবাধিকার এই শব্দ গুলো সর্বজনীন পরিচয়। এগুলো সম্প্রতি নব্য আবিস্কৃত কোন শব্দ নয়। বরং শতাব্দী কাল ধরে চলমান জনপ্রিয় এক শব্দ। মানবধিকার আমাদের নিকট সু-পরিচত হওয়া সত্বেও আমরা মানবাধিকারের সঠিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজানা। তাহলে জেনে নেয় মানবাধিকারের ইতি কথা।

১৯১৪ সালের ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর মানবাধিকারের বিষয়টি মানুষকে ব্যাপকভাবে ভাবিয়ে তোলে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট নানা নৈরাজ্য, দুর্ভিক্ষ, অনাহার, হতাশা, নৈতিকতার অবক্ষয় প্রভৃতি ও নানান সংকটের মুখোমুখি হতে হয় গোটা বিশ্বকে।

এই অবস্থা উত্তরণের জন্য সমগ্র বিশ্বে একটি নীতির প্রয়োজন দেখা দেয়, যে নীতি দ্বারা বিশ্বের মানুষকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

এছাড়া পরবর্তীতে হিটলারের গঠিত ন্যাৎসী বাহিনীর অমানবিক অত্যাচার ও অনাচার থেকে মানুষকে রক্ষা করার কথা ভেবেছিলেন তৎকালীন বিশ্বের কিছু মানুষ। এসবের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিষ্ঠিত হয় মানবাধিকার।

মূলত মানবাধিকার মানে বুঝায়- ক্ষুধা থেকে মুক্তি, ভোটের অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, অবাধ বাক স্বাধীনতার চর্চা,শিক্ষার সুযোগ লাভ, ব্যক্তিচিন্তার স্বাধীনতা,স্বাস্থ্য খ্যাতে নিরাপত্তা, চিকিৎসার নিশ্চয়তা, সকল অধিকার ভোগের নিশ্চয়তা, সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান উন্নতির নিশ্চয়তা প্রভৃতি। এই ছিল মানবাধিকারের বৈশিষ্ট্য,লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের মানবাধিকারের দিকে দৃষ্টি করলে পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ত্রিশ লক্ষ শহিদের জীবন উৎসর্গ করে একটি স্বাধীন জনপদ পেয়েছি। তার কিছু দিন পর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মানবাধিকারের ব্যাবস্থ্যা গ্রহণ করেন। অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এ জনপদের মানুষ তাদের মানবিক অধিকার পায়নি। এদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতির থাবা। সামরিকতন্ত্র, ভোটারবিহীন ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ, কালো টাকার দৌরাত্ম, রাজনৈতিক অস্থিরতায়, সরকারিভাবে মানবাধিকার রক্ষায় ১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকার।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।