আশুগঞ্জে স্ত্রী সেজে ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়ে দুই যুবতী কারাগারে

২ জুন, ২০২১ : ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ ৮৯০৬

নূসরাত রিতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ১৯/২০ বছর বয়সের এক ছেলের স্ত্রী সেজে ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে দুই যুবতী। পরবর্তীতে আদালত তাদের জেলে পাঠিয়েছেন। গত ৩০ মে উপজেলার দক্ষিণ তারুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবতীরা হলো, বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত জাহিদ মিয়ার মেয়ে চম্পা বেগম (২৫), তার স্বামীর নাম সানি ভূইয়া, এবং অপরজন হলো, ফাতেমা বেগম নিশি (২০), তিনি আখাউড়া উপজেলার তারাগন গ্রামের সাচ্চু মিয়ার মেয়ে। মেয়ে দুজন একে অপরের পরিচিত। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই নারীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ছেলের মা। মামলায় অপর দুই আসামীরা হলো, আশুগঞ্জের দক্ষিণ তারুয়া গ্রামের হেবজু ভূইয়ার ছেলে বিল্লাল ভূইয়া ও তার ভাই হাবিব ভূইয়া।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ৩০ মে রাত ৮টার সময় হঠাৎ এই দুই নারী দক্ষিণ তারুয়া গ্রামের ওবায়েদুল চৌধুরীর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে চম্পা বেগম নিজেকে ওবায়েদুল চৌধুরীর ছেলে কিশোর চৌধুরীর স্ত্রী বলে দাবী করে। এসময় চম্পার সাথে থাকা ফাতেমা বেগম নিশি চম্পার দাবীর পক্ষে সাক্ষী দেয়। তখন কিশোরের বিয়ের বয়স হয়নি বলে তার মা সুমী আক্তার ওই নারীদের জানালে তারা তাদের দাবীতে অটল থাকে। এই অবস্থায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রীর দাবী ছেড়ে চলে যাবে বলে ওই দুই নারী ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে কিশোরের পরিবারের কাছে। এই কথা শুনে বাড়ির লোকজন দুই নারীকে আটক করে পুলিশে ফোন করলে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে যাওয়ার আগে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই দুই নারী তাদের দোষ স্বীকার করে বলেন, একই এলাকার বিল্লাল ভূইয়া ও হাবিব ভূইয়া চম্পাকে স্ত্রী সাজিয়ে ওবায়েদুল চৌধুরীর বাড়িতে পাঠায় ফাসানোর জন্য। এভাবেই তারা লোকজনকে বেকায়দায় ফেলে টাকা আদায় করে।

বিল্লাল ভূইয়ার সাথে তাদের কিভাবে পরিচয় জানতে চাইলে চম্পা বলে, ৪/৫ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় বিল্লালের বাসায় ভারা থাকতো চম্পা। চম্পার স্বামী বিদেশ থাকায় বিল্লালের সাথে ঘনিষ্টতা তৈরি হয় চম্পার। চম্পার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল বিল্লালের। স্ত্রী সেজে নাটক করার জন্য বিল্লাল ফোনে চম্পাকে ডেকে নেয়। চম্পা বিল্লালের কথায় রাজি হয়ে ওবায়েদুল চৌধুরীর পরিবারকে ফাসিয়ে টাকা আদায় করার জন্য তার ছেলে কিশোর চৌধুরীর স্ত্রী সেজেছিল।
চম্পার একটি সন্তান রয়েছে। তার স্বামী এখনো বিদেশ আছেন এবং বিল্লালের সাথে চম্পার এখনো ঘনিষ্টতা রয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, তাদের মধ্যে পরকীয়া রয়েছে। পরকীয়ায় আসক্ত হয়েই ওই নারীরা বিল্লালের কথামতো নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাসাতে এসেছিল।

দক্ষিণ তারুয়া এলাকার মাসুদ জানান, বিল্লাল এলাকার খারাপ প্রকৃতির লোক। বিল্লাল দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ব্যবসার সাথে জরিত ছিল। এলাকার কেউ তার কৃতকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে বিভিন্ন কৌশলে বিপদে ফেলে। ছয় মাস আগে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি দুই বারের খোলাপাড়া হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবু বকরের দোকানে ইয়াবা রেখে তাকে র‌্যাব দিয়ে ধরিয়ে নিয়ে নাজেহাল করে। ঠিক একই ভাবে দক্ষিণ তারুয়া গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের ভাতিজা আতিক এর দোকানে ইয়াবা রেখে তাকেও র‌্যাব দিয়ে ধরিয়ে দেয় বিল্লাল। যদিও তারা পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমানিত হয়েছিল। একই ভাবে এখন নারী দিয়ে গ্রামের নিরিহ মানুষদের হয়রানীর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও তার চক্রান্ত ধরা পড়ে গেছে। তিনি আরো জানান, এই অভিযুক্ত নারী দুইজন প্রায়ই তক্ষিণ তারুয়ার বিল্লালের মুরগীর খামারে এসে রাত্রী যাপন করতো।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।