গ্রিস থেকে পুশব্যাক হওয়া ৩,৭৬৩ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে তুর্কি কোস্টগার্ড

২ জুন, ২০২১ : ৬:০৩ অপরাহ্ণ ১৯৩

তেপান্তর রিপোর্ট: ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত গ্রিস থেকে পুশব্যাক হওয়া তিন হাজার ৭৬৩ অভিবাসীকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেছে তুরস্ক। তুরস্কের কোস্টগার্ড কমান্ডের বরাত দিয়ে তুর্কি দৈনিক ডেইলি সাবাহ এমন তথ্য জানিয়েছে৷ এ বছর ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল মাসে বেশ কয়েকটি পুশব্যাকের খবর গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা তুর্কি কোস্ট গার্ড কমান্ড জানিয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মোট তিন হাজার ৭৬৩ জন অভিবাসীকে তারা সমুদ্র থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে উদ্ধারকৃতদের সংখ্যা ছিল ১৬৯ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫২৪ জন, মার্চে ৮২৫ জন, এপ্রিলে সর্বোচ্চ ১৬২০ জন এবং মে মাসে ৬২৫ জন অভিবাসীকে তুর্কি উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ডেইলি সাবাহ আরো জানায়, ২০২০ সালে তুরস্ক মোট ১২ হাজার ৬৫৫ অভিবাসীকে তুর্কি উপকূল থেকে উদ্ধার করেছে, যাদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৯৩ জন ছিল অনিয়মিত অভিবাসী।

ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে তুরস্কের সাথে ইইউর বেশ কয়েকটি বড় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

তুরস্ক এবং মানবাধিকার সংস্থা সমূহের নিন্দা

সমুদ্রে গ্রিসের এই পুশব্যাক কার্যক্রমকে তুরস্ক সরকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ব্যাপক সমালোচনা করেছে। কারণ ২০২১ সালের শুরু থেকেই গ্রিসের কট্টর ডানপন্থী সরকার বেশ কয়েকটি বড় পুশব্যাকের ঘটনা ঘটিয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মার্চ মাসে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “২০২০ সালেও গ্রিসে প্রচুর পুশব্যাকের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সশস্ত্র কোস্টগার্ডের আক্রমণ, শারীরিক নির্যাতন ও অভিবাসীদের নৌকাগুলোকে উপকূলে ভিড়তে না দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে৷”

আন্তর্জাতিক আশ্রয় আইন ও জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, সমুদ্রে পুশব্যাক অবৈধ কার্যক্রম। আইন অনুযায়ী একজন অভিবাসীকে এমন কোন দেশে পাঠিয়ে দেয়া যাবে না যেখানে তিনি রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা গোত্রগত পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের স্বীকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া ৩ মার্চ জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছিল, সমুদ্রে গ্রিসের এই পুশব্যাক কার্যক্রম ১৯৫১ সালের আশ্রয় আইন, মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় কনভেনশন ও ইউরোপীয় আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। গ্রিসকে দ্রুত এই ধরনের কার্যক্রম থেকে সরে আসার আহবান জানানো হয়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।