ডিউকের ভুল চিকিৎসা কেড়ে নিল খাদিজার পরিবারের হাসি-আনন্দ

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ : ১১:১৯ অপরাহ্ণ ১৩৩৯

ভুল চিকিৎসার শিকার খাদিজার মৃত সন্তান।

সীমান্ত খোকন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকার খাদিজা আক্তার। বিয়ে করেছেন কসবার মূলগ্রাম ইউপির রাইতলা গ্রামে। স্বামী ইমরান সরকার পুলিশে চাকরি করেন। এই নিয়ে মুটামুটি সুখী পরিবার খাদিজার। কিন্তু শত সুখের মাঝেও একটি সন্তানের অভাবে সেই সুখ যেন পূর্ণতা পাচ্ছিলনা। বিয়ের ৫ বছরের মাথায় অনেক সাধনার পর সন্তান সম্ভবা হোন খাদিজা। নতুন অতিথির আশায় পরিবারের সবার মনে খুশির আলো যেন উকি-ঝুকি দিচ্ছিল। বাচ্চা প্রসবের তারিখ ছিল চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর। কিন্তু তার আগেই পেটের পানি ভেঙ্গে যায়। ফলে ৪ সেপ্টেম্বর খাদিজা ভর্তি হোন বিতর্কিত ডাক্তার ডিউক চৌধুরীর খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে নানান ভুল চিকিৎসা,প্রতারণা ও অবহেলার স্বীকার হয়ে সদ্য প্রসব হওয়া সন্তান হারাতে হলো খাদিজাকে। ফলে খাদিজার পরিবারের মানুষের হাসি মুখগুলোতে নিমিষেই নেমে এল শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত তার পরিবারে একটি সন্তানের জন্য হাহাকার। কারো মুখে ভালো ভাবে হাসি নেই।
খাদিজা জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর ডাক্তার বলেছেন বাচ্চার অবস্থা ভালোই আছে। পরে খাদিজাকে ২ টি ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়। তারপর খাদিজার পরিবারকে হাসপাতাল থেকে বলা হলো তারা যেন বাড়ি চলে যান। কিন্তু খাদিজা হাসপাতালেই ভর্তি থাকেন। পরের দিন সকাল ৭টায় ডাক্তার আলট্রাসাউন্ড করে বলেন বাচ্চা ভালো আছে কিন্তু অক্সিজেন কম, তাই খাদিজাকে অক্সিজেন লাগানো হলো। কিন্তু তার এক ঘন্টা পর আরেক শিফ্টের নার্স এসে সেই একই ইঞ্জেকশন পুশ করলে খাদিজা আপত্তি তুলে। তখন নার্স তার ভুল বুঝতে পেরে আরেকটি ইঞ্জেকশন পুশ করে আগের ইঞ্জেকশনকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করেন।তখন আর কোন সমস্যা হবেনা বলে খাদিজাকে আশ্বস্ত করলো ওই নার্স। কিন্তু তার পরেই খাদিজার মারাত্নক রকম ব্যাথা উঠে যা মরে যাওয়ার মতো অবস্থা। আর তখনই ডাক্তার ডিউক আসেন এবং বলেন, এখনই যদি সিজার করানো না হয় তাহলে মা-সন্তান দুজনই মারা যাবেন। তখন খাদিজার স্বজনেরা হাসপাতালে এলো। তারা ভয়ে সিজার করাতে রাজি হলো। ওই দিনই বেলা ১১টায় সিজার হলো এবং মা সুস্থ ছিল, কিন্তু বাচ্চা আশঙ্কাজনক। তাই ওইদিনই ঢাকার পেনকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বাচ্চাকে। সেখানকার ডাক্তার জানান, সময়ের আগে বাচ্চা প্রসব হলে তাকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার কথা যা তাকে দেওয়া হয়নি। একই সাথে বাচ্চার মাকে যেখানে স্যালাইন লাগালেই হতো সেখানে তাকে অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যাথার ইঞ্জেকশন দিয়ে সময়ের আগে সিজার করানো হয়েছে। ফলে ৪ দিন সেই হাসপাতালে ভর্তি থেকে খাদিজার বাচ্চা মারা যায়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভুল চিকিৎসায় দিয়া নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠে খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালটির মালিক ডাক্তার ডিউক সহ ৩ ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা হয়।মামলার পর সুরতহালের জন্য কবর দেওয়ার ১২ দিন পর গত ১৫ নভেম্বর লাশ উত্তলন করা হয়। এছাড়াও ডাক্তার ডিউকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ আছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।