ফলো আপ: সদর হাসপাতালে ডাক্তার ও “এম আর”দের সংঘবদ্ধ অনিয়ম, দেখার কেউ নেই

২১ জুন, ২০২১ : ৩:৩৯ অপরাহ্ণ ৫৯০

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধির (এম আর) দ্বারা প্রেসক্রিপশন লিখানো ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন রনির ব্যপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।গত ১৩ জুন “সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তারের সামনেই রোগীকে ব্যাবস্থাপত্র লিখে দিলো ঔষধ কোম্পানির এমআর” শিরোনামে তেপান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর ৮ দিন পেড়িয়ে গেলেও অভিযুক্ত ডাক্তার মামুনের ব্যপারে কোনই ব্যবস্থা নেয়নি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ব্যবস্থা নেয়নি কোন ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধেও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা অবাধে যাতায়াত ও ডাক্তার ভিজিট করে থাকেন। এর মধ্যে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের ভীর সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়। মাঝে-মধ্যে তারা এত বেশি ভীর জমায় যে সাধারণ রোগীরাও ডাক্তারের কাছে যেতে হিমশিম খেতে হয়। তখন জরুরী বিভাগের দায়ীত্বরত ডাক্তাররাও এমআর’দের কিছু বলেননা। এতে করে সাধারণ রোগীরা সঠিক স্বাস্থ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গত ১২ জুন প্রচন্ড শারীরিক অসুস্থতা হোসনা বেগম নামে এক নারী তার চাচীর সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। হোসনা বেগমের চাচী তেপান্তরের কাছে অভিযোগ করেন, দুপুর তিনটার দিকে জরুরী বিভাগের টিকিট কেটে তারা যখন কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করেন তখন চিকিৎসকের সামনের চেয়ারে দুজন যুবক বসে ছিলেন। তাদের একজন তার কাছ থেকে রোগীর টিকিট নিয়ে রোগীর সমস্যার কথা জানতে চান। তারপর ঐ যুবক হোসনা বেগমের জরুরি বিভাগের ব্যাবস্থাপত্রে চারটি ঔষধ লিখে দেন। চাচি ঐ যুবকের কাছে বলেন যেহেতু রোগীর শারীরিক অবস্থা খুবই দুর্বল তাকে ভর্তি রাখা যায় কিনা। তখন ঐ যুবক তাকে এই ঔষধগুলো কিনে নিয়ে বাসায় চলে যেতে বলেন এবং এই ঔষধগুলো খেলেই রোগী ভালো হয়ে যাবেন মর্মে আশ্বস্ত করেন। অথচ ঐ যুবক যখন রোগীর ব্যাবস্থাপত্রে ঔষধ লিখে দিচ্ছিলেন তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন রনি অপর যুবকের সাথে খোশগল্পে মগ্ন ছিলেন বলে তিনি জানান।

এ ব্যপারে তখন ডাক্তার মামুনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি তেপান্তরকে বলেছিলেন, জরুরি বিভাগে মাঝেমধ্যে প্রচন্ড চাপ থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে আমাদেরকে ওয়ার্ডে কিংবা অপারেশন থিয়েটারে যেতে হয়। তখন হয়তোবা অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাদেরকে কিছুটা সহায়তা করেন। তবে আমরা যা বলি তারা তাই লিখেন। এক্ষেত্রে সে যদি তার নিজের কোম্পানির ঔষধ লিখে থাকে তাহলে সে কাজটা ঠিক করেনি। আর পরবর্তীতে চেষ্টা করবো এ ধরনের কোন ভুল যাতে না হয়।

এ ব্যপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ফখরুল আলম আশেক ২১ জুন তেপান্তরকে বলেন, ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন রনির বিষয়টি শুনে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন মামুন বলেছেন, জরুরী বিভাগের যেই টিকেটে হোসনা বেগম নামের রুগী ডাক্তার দেখিয়েছিলেন সেই টিকেটে ডাক্তার মানুনের সই নেই। তাছাড়া এটা মামুনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেও জানিয়েছেন মামুন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।