নবীনগরে ইউএনও’র কল্যাণে মাথা গোজার ঠাঁই পেল অসহায় পরিবার

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ : ৭:৪১ অপরাহ্ণ ৪০৩

মোঃ সফর মিয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুমের কল্যাণে নারায়ণপুর গ্রামের একটি অসহায় পরিবার অবশেষে মাথা গোজার ঠাঁই পেল। অসহায় এই পরিবারটির প্রতি প্রশাসনের এমন মানবিক সহায়তা প্রদানের ঘটনায় স্থানীয় বিভিন্ন মহলে বেশ নাড়া ফেলেছে।
জানা গেছে, নবীনগরের নারায়ণপুর গ্রামের দরিদ্র আশরাফুল ইসলাম ওরফে ফোরকান মিয়ার সঙ্গে ২০০২ সালে লাউর ফতেপুর গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন ফোরকান ও জান্নাত। এরইমধ্যে ফোরকান জান্নাতের সংসারে ২টি ছেলে ও ২টি মেয়ে জন্ম নেওয়ার পর অভাব আরও চরম আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে অভাবের তাড়নায় পরিবারটি কাজের সন্ধ্যানে নবীনগর ছেড়ে বাঞ্ছারামপুরের রূপসদী গ্রামে আশ্রয় নেয়। সেখানে খেয়ে না খেয়ে পরিবারটি কোনরকমে দিনাতিপাত করছিলো।
এ অবস্থায় মাস তিনেক আগে অভাবগ্রস্ত সংসারে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ লেখাপড়ার চিন্তায় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস এক রাতে ঘুমের মধ্যে ব্রেইনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে ধারদেনা করে চিকিৎসা শেষে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন জান্নাত।
পরে মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজে পেতে নারায়ণপুরের কিছু মানুষের পরামর্শে জান্নাত ছুটে আসেন নবীনগরের ইউএনও মাসুমের কাছে। ওইসময় পুরো ঘটনা শুনে ইউএনও মাসুম জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়িতে একটি বসতঘর তুলে দেয়ার আশ্বাস দেন।
পরে নারায়ণপুর গ্রামে থাকা জান্নাতের দেড় শতকের ছোট্ট বাড়িটিতে স্থানীয় সরল পথ ফাউন্ডেশন, পিআইও অফিস ও স্থানীয় জনস্থাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যায়ে সোলার প্যানেল, টিউবওয়েল সহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধাপাকা টিনের বাসগৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়।
অবশেষে আজ সোমবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জান্নাতুল ফেরদৌসের হাতে সেই ঘরের চাবি তুলে দেন ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন,’অভাবের তাড়নায় একবার ভেবেছিলাম আমি আত্মহত্যা করবো। কিন্তু ইউএনও স্যার আমাকে মাথা গোজার ঠাঁই করে দেয়ায়, নতুন করে এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বলেন,”এটি কিন্তু আমার একার কৃতিত্ব নয়। সবাই মিলে আমরা একটি অসহায় পরিবারকে বাঁচাতে যার যার অবস্থান থেকে কেবল একটু হাত বাড়িয়ে দিয়েছি মাত্র।”
উল্লেখ্য, এর আগেও নবীনগরের একাধিক অসহায় দরিদ্র পরিবারের সাহায্যেও এমনিভাবে এগিয়ে এসেছেন এই ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।