আইনশৃঙ্খলার অবনতি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহরে হঠাৎ বেড়েছে চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ

২৪ জুন, ২০২১ : ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ ৯৩১

কাজী আশরাফুল ইসলাম: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে আকস্মিকভাবে বেড়েছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা। গত এক সপ্তাহে প্রায় এক ডজন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করতে পারে নি সদর থানার পুলিশ। সর্বশেষ বুধবার শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামে মসজিদের খতীব মাওলানা সিগবাতুল্লাহ নুর। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার ফজরের নামাজের আগে সিগবাতুল্লাহ নুর হুজুর এবং জেলা জামে মসজিদের খাদেম মনির হোসেন মধ্যপাড়া দীঘিরপাড় হয়ে জেলা জামে মসজিদে আসার সময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তাঁদেরকে আক্রমণ করে তাঁদের কাছে থাকা মোবাইল ও মসজিদের চাবি ছিনিয়ে নেয়।’ ঘটনাটিকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িতদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগন।গত এক সপ্তাহে শহরজুড়ে ঘটে যাওয়া এইসব ঘটনায় তীব্র আতংক বিরাজ করছে শহরবাসীর মনে। শহরের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, “শহরের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন টানা চুরি-ছিনতাই হচ্ছে।একটা অদ্ভুত আতংক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকার মানুষদের মধ্যে।আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার?”

ছোট খাটো এসব অপরাধের ঘটনায় উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে কাজীপাড়া এলাকার মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘কিছু দিন আগে কাজীপাড়াতে বসবাসরত আমার ছোট মামার বাড়ি থেকে মেজো আন্টির এন্ড্রয়েড ফোনটি অজ্ঞাত এক যুবক জানালা ভেঙে নিয়ে যায়।এর পরদিনই পাশের গলি থেকে চোর চোর বলে শোরগোল আসে।এলাকাবাসীর আওয়াজ শুনে চোর কিছু চুরি না করেই দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে শুনা যায় সে এক বিল্ডিং এর ভেন্টিলেটর থেকে অন্য বিল্ডিং এর জানালায় হাত দিচ্ছিল কিন্তু কেউ একজন দেখে ফেলায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।’

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মনির হোসেন তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন,’ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনদিকে ?
মধ্যপাড়ায় জেলা জামে মসজিদের ইমাম ছিনতাইয়ের শিকার,কলেজপাড়ায় কলেজ ছাত্র কিশোর গ্যাংয়ের নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের শিকার,লাখী বাজারে বেশ কয়েকটা তালা ভেঙ্গে ডাকাতির চেষ্টা, আমার বাসায় ভোরবেলা চুরি,—–
আতংকে শহরবাসী—‘

উত্তর মোড়াইল এলাকার বাসিন্দা হোসনা বেগম বলেন, ‘ গত সপ্তাহে কাজীপাড়া ঈদগাহ্ মাঠ পুকুর সংলগ্ন এলাকা থেকে আমার বাবার গলায় ছুরি ধরে তিনটি ফোন সহ বেশ কিছু টাকা নিয়ে যায় মাস্ক পরিহিত দুই যুবক।এছাড়া সকাল বেলা এলাকার মহিলারা হাঁটতে বের হওয়ার সময়ও প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তে হয়।’

সাম্প্রতিক সময়ে জেলা শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে কিনা এবং জেলা জামে মসজিদের খতিবের ছিনতাইয়ের শিকার হবার ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘ বড় মসজিদের হুজুরের ঘটনায় ইতিমধ্যে থানায় একটি মামলা নেয়া হয়েছে এবং এই মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে শহরের কাজীপাড়া ও কান্দিপাড়া এলাকা থেকে কয়েকজন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।সকলে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে অতি শীঘ্রই শহরকে ছিনতাইকারী মুক্ত করা সম্ভব হবে।”

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।