ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালে ২ সন্তানের জননীর লাশ রেখে পালিয়েছে স্বামী

২৪ জুন, ২০২১ : ৮:২৫ অপরাহ্ণ ৫০৭

শেখ রাজেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কীটনাশক পান করে মৃত্যু হওয়া গৃহবধূর মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী ও তার লোকজন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।  মৃত গৃহবধূ রুবিনা আক্তার (৩৫) আশুগঞ্জ উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের খোলাপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। রুবিনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়,রুবিনা আক্তার ধান-চালের কেরি পোকা মারার ট্যাবলেট খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তার স্বামী মোঃ মুর্শিদ মিয়া হাসপাতালে ইমারজেন্সিতে লাশ রেখে পালিয়ে গেছে। গত ১৩ বছর আগে উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের ব্যাপারি বাড়ির মৃত রহিম মিয়ার ছেলে মুর্শিদ মিয়ার সাথে একই উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের খোলাপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের মেয়ে রুবিনার বিয়ে হয়।
প্রাই ১৪ বছর সংসারে তাদের ১ বছরের একটি ও ১০ বছরের একটি ছেলে আছে। বিয়ের পর থেকেই তাদের থাকার রুম নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো। কারন রুবিনার ২ ছেলে নিয়ে এক রুমে থাকাটা খুব অসুবিধা ছিল। এসব বিষয় নিয়ে রুবিনার সাথে মুর্শিদের বড় ভাইয়ের বউ সাহেরা ও আরেক ভাইয়ের বউ সিমার সাথে প্রায় কথা-কাটাকাটি হতো। ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের করে রুবিনা কেরি পোঁকা মারার ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ।

রুবিনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে তার মা হেলেনা বেগম বলেন, ছেলে মেয়ে কে প্রাইভেট পড়া নিয়ে আজকে সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। রুবিনার ছেলে তার নাতি মাইনুদ্দিন দুপুরে খোলাপাড়া গিয়ে তার মা কে মারধোর করছেন বলে জানান তার নানুবাড়ির মানুষদের ।
তিনি আরও বলেন, মুর্শিদ প্রবাস জীবন কাটিয়ে ১০ বছর পর দেশে আসেন। এসেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে রুবিনাকে অত্যাচার করতেন। মুর্শিদের ব্যাপারে এত কিছু জেনেও মেয়েকে সংসার করিয়েছেন তিনি।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বলেন, হাসপাতাল সূত্রে জানতে পারি এক গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বামী। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়। ঘটনার তদন্তে কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না৷

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।