মিথ্যা-বানোয়াট ও একতরফা ভাবে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

২৯ জুন, ২০২১ : ১২:২০ অপরাহ্ণ ৩৩৯

গত ২৮ জুন ২০২১ তারিখে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় “আশুগঞ্জে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৪০ লাখ টাকার মাছ নিধন” শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি সুমন চৌধুরী উক্ত সংবাদটির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদটিতে বলা হয়েছে পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২৭ জুন আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের একটি পুকুরে সুমন চৌধুরীর ভাই ইমরানসহ আরো কয়েকজন মিলে পুকুরে বিষ ঢালে। শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরীর সাথে বিরুধ চলে আসছিল তারই প্রতিবেশি সুমন চৌধুরীর। তাই সাইফুদ্দিনের ভাইয়ের পুকুরে প্রতিপক্ষ সুমন চৌধুরীর লোকজন বিষ ঢেলে ৪০ লক্ষ টাকার মাছ নিধন করে।

অথচ প্রকৃত ঘটনা হলো, সেখানে ৪০ লক্ষ টাকার মাছতো ছিলোইনা বরং মৃত যেই মাছগুলো দেখানো হয়েছিল সেই মাছগুলো মূলত অন্য জায়গা থেকে এনে পুকুরে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে যা সুমন চৌধুরীর লোক বিষ ঢেলে মেরে ফেলা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রকৃত পক্ষে যেই পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ মারার অভিযোগ করা হয়েছে সেই পুকুরের সব মাছই জীবিত রয়েছে। যদি কেউ পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ মারতো তাহলে অন্য মাছগুলো জীবিত রয়েছে কিভাবে?

উক্ত সংবাদটি যেইসব সাংবাদিকরা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন তাদের অনেকেই আমার বা অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির বক্তব্য ছাড়াই একতরফা ভাবে সংবাদটি প্রকাশ করেছে, যা সঠিক সাংবাদিকতার অন্তরায় বলে আমি মনে করি। কেননা, সংবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিৎ। যা এখানে করা হয়নি।

মূলত শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরী ও তার সহযোগী বিল্লাল ভূইয়া ও হেবজু ভূইয়া আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নানা কুট-কৌশল অবলম্বন করে আমাকে ফাসানোর চেষ্টা করছে। আমি যেন চেয়ারম্যান নির্বাচন না করতে পারি সে জন্য তারা আমার পিছনে উঠে পড়ে লেগেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ মে আমার নিজ গ্রাম শরীফপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তারুয়াতে আমার প্রতিবেশি ও অনুসারী উবায়দুল চৌধুরীর ছেলে কিশোর চৌধুরীকে মেয়ে দিয়ে ফাসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ওইদিন দুই মেয়ে হঠাৎ কিশোরের বাড়িতে গিয়ে নিজেদের স্ত্রী দাবী করে কিশোরকে ফাসাতে চেয়েছিল। তখন মেয়েদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। তারা এখনো জেলে আছে। আর এই মেয়েদের সাথে জরিত ছিলো ইমান উদ্দিন, তিনি চেয়ারম্যান সাইফু্দ্দিনের ভাই ও  যেই পুকুরের মাছ মেরে ফেলা হয়েছে বলা হচ্ছে তিনিই সেই পুকুরের মালিক। এই ইমান উদ্দিন ও বিল্লাল ভূইয়ার স্ত্রীও কিশোরকে নারী দিয়ে ফাসানোর ঘটনায় অভিযুক্ত। আর আমি সুমন চৌধুরী ও আমার ভাই ইমরান চৌধুরী এই নারী কেলেঙ্কারির মামলার সাক্ষি।  এতে করে স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে এটি একটি ষড়যন্ত্র। এতে আমাদরকে ফাসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে শরীফপুর ইউনিয়নের খোলাপাড়া বাজারে আমার আরেক অনুসারী আবু বকরকে শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন চৌধুরী ইয়াবা দিয়ে ফাসিয়ে র্যা ব দিয়ে আটক করেছিল। ওইদিনই আবু বকর নির্দোষ প্রমান হওয়ায় দ্রুত ছাড়াও পেয়ে যায় আবু বকর।

এরকম অনেক ঘটনা ঘটিয়েছেন চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন, তার সহযোগী বিল্লাল ভূইয়া ও হেবজু ভূইয়া। কিন্তু কোন ভাবেই আমাকে ফাসাতে না পেরে এখন পুকুরে মাছ মারার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে ফাসানোর চেষ্টা করছে। এটি আমার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট ষড়যন্ত্র। আমি এই মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিবাদকারী
সুমন চৌধুরী
গ্রাম: দক্ষিণ তারুয়া
থানা: আশুগঞ্জ, জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।