নবীনগরে টানা বর্ষণে সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কার চান এলাকাবাসী

৫ জুলাই, ২০২১ : ৫:১১ অপরাহ্ণ ২২৮

মো. সফর মিয়া: ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আলীয়াবাদ- রেজতপুর সড়কে টানা বর্ষণে ব্রিজের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের রেজতপুর গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কের তায়্যেব আলীর বাড়ির পাশে ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বের সংযোগ সড়কটি ভাঙার ফলে।গত বছর পৌর এলাকার আলমনগর গ্রামের আলমগীর হোসেন স্ব-উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটি মেরামত করেছিলেন। এতে করে এলাকাবাসী প্রায় ১বছর নির্বিঘ্নে যাতায়াত করেছে সড়কটি দিয়ে। পরবর্তীতে আলমগীর হোসেনকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার একরামুল ছিদ্দিক তার খরচ হওয়া সমুদয় অর্থও পরিশোধ করেন।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এবারও ব্রিজের সংযোগ সড়কের সেই স্থানটি ধ্বসে পড়ায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ে । করোনায় আলমগীর হোসেন এর আয়-রোজগার আগের মতো না হওয়ায় তিনি এবার এগিয়ে আসতে না পারলেও ব্রীজে থাকা একাধিক গর্ত নিজ অর্থায়নে মেরামত করে দেন। এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন বলেন গত বছর এরকমভাবে ব্রিজের গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় আমি নিজ অর্থায়নে মেরামত করে দেয় পরবর্তীতে আমার যাবতীয় খরচ ইউএনও মহোদয় আমাকে দিয়ে দেয়। এই বৎসর করোনার কারণে আর্থিক ভাবে একটু অসুবিধা থাকায় আমি কাজটা করতে পারি নাই কিন্তু ব্রিজের দুইটা গর্ত সংস্কার করেছি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ গত তিন দিন ধরে সড়কটির সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমনিতেই রাস্তার চরম দুরবস্থা, তার উপর ব্রীজের গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় এখন আর কোনো যানবাহন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারেনা বিধায় আমরা অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি। আমরা চাই অতি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে আমাদের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হোক।

পৌর এলাকার আলীয়াবাদ থেকে রেজতপুর, গোপালপুর হয়ে সাহেবনগর, নাসিরাবাদ, শ্যামগ্রাম, মানিকনগর যাওয়ার জন্য এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন প্রায় ১০ হাজার জনসাধারণ। দীর্ঘদিন এই সড়কটির সংস্কার না হওয়ার পাশাপাশি রেজতপুর নামক স্থানে থাকা ব্রীজটিরও অবস্থা একেবারে নাজুক। বর্তমানে ব্রীজটির উপর দিয়ে কোন প্রকার যান চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়দের এমন অভিযোগ সম্পর্কে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজহার হোসেন জামাল বলেন,রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের অফিসের লোক এসে পরিদর্শন করার পর এলজিআরডি এর মাধ্যমে কাজটি দ্রুত সমাধান করে দেয়া হবে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করার পরেও উনি রিসিভ না করায়,এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার একরামুল ছিদ্দিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেবকে আমি বলে দিয়েছি এল জি আর ডি থেকে উনার কাজটা দ্রুত করে নেওয়ার জন্য আশা করি দু’একদিনের মধ্যেই রাস্তাটা স্বাভাবিকভাবে চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।