দারিদ্র বিমোচনে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের শেখ হাসিনা মডেল : সারা বিশ্বে এক ও অনন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা

৬ জুলাই, ২০২১ : ৭:২৪ অপরাহ্ণ ৩২৮

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।যার কাছে সবকিছুর চেয়ে বড় পরিচয় তিনি জাতির পিতার কন্যা। যার পিতা আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন,যেখানে বঙ্গবন্ধু,মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন।রাজনৈতিক মুক্তি এনে দিলেও ১৯৭৫ সালের ১৫’ই আগস্ট বিপদগামী ঘাতকদের নৃশংসতার কারণে তিনি এ জাতিকে পরিপূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। তাই তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দেয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই যখন ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে নির্বাসিত জীবন ছেড়ে দেশে ফিরেছিলেন তখন থেকেই এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে ও তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে এবং জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়তে লড়াই করে যাচ্ছেন। তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেন,যুগান্তকারী কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থা চালু করেন।তিনি এদেশের মানুষকে ভিশনারিতে পরিণত করেছেন এবং আত্ননির্ভর হতে শিখিয়েছেন তার দেয়া ভিশন ২০২১,ভিশন ২০৩০,ভিশন ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এর মাধ্যমে। তিনি পদ্মা বহুমুখী সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করে বিশ্বের কাছে বাঙালি জাতিকে নতুনভাবে পরিচয় করে দিয়েছেন। তিনি উত্তরাঞ্চলের ভয়াবহ মন্দাকে জাদুঘরে পাঠিয়েছেন,কৃষিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ও উন্নতি এনেছেন,বাংলাদেশকে খাদ্যে সমৃদ্ধ করেছেন।দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন মডেল বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।এদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরিত করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সততা,নিষ্ঠা,ন্যায়পরায়ণতা,দূরদর্শিতা,সিদ্ধান্তের প্রতি দৃঢ়তা এবং জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাকে সারা বিশ্বে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।তার নেতৃত্বে বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার দারিদ্র ও আশ্রয়হীন নাগরিকদের বিনামূল্যে জমি এবং গৃহ প্রদান করছে,এবং জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। যার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে এক ও অনন্য হয়ে উঠেছেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকার দারিদ্র বিমোচনে নতুন মডেল হিসেবে “দারিদ্র বিমোচনে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের শেখ হাসিনা মডেল” বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন,যেখানে আশ্রয়ণের সুবিধা,ঋণ সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত,যার মাধ্যমে-
১.সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক উপকরণ নিশ্চিত করা হবে।
২.আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার এর ৩.১৩ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন হবে,’আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়ন হবে।
৩.পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন হবে।
৪.জাতিসংঘ কর্তৃক এসডিজি’র নির্ধারিত লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে।
৫.২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

দারিদ্র বিমোচনের এ নতুন মডেল বাস্তবায়ন এর ফলে –
১.অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে,উপার্জন বৃদ্ধি পাবে এবং সঞ্চয় করতে পারবে।
২.সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে,তথা সম্মানজনক জীবিকার ব্যবস্থা হবে,মর্যাদা ও নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে।
৩.মানবসম্পদ উন্নয়ন হবে,তথা দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হবে,প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে,সামর্থ্য ও সক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
৪.পরিবেশের উন্নয়ন হবে,তথা বনায়ন হবে এবং গ্রামেই শহরের সকল সুবিধা নিশ্চিত হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র বিমোচনের মডেলকে সামাজিক আন্দোলনে রুপান্তরিত করেছেন,আশ্রয়ণ প্রকল্পের তহবিল সমৃদ্ধ করতে-
১.বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে।
২.সরকারের সচিবগণ কর্তৃক নিজস্ব অর্থায়নে ১৫০ টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।
৩.বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক ৫ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
৪.জনপ্রতিনিধিগণ জমি ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করছেন।
৫.বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।
৬.এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন।

দারিদ্র বিমোচনে সারা বিশ্বে নজির সৃষ্টিকারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বৈশিষ্ট্যগুলো হল-
১.অসহায়,দরিদ্র,ভিক্ষুক,বিধবা,স্বামী পরিত্যক্তা,ভূমিহীন,গৃহহীন ছিন্নমূল(ক-শ্রেণী) মানুষকে প্রাধান্য দেয়া।
২.যার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ জমি আছে কিন্তু ঘর নেই(খ-শ্রেণী)।
৩.জলবায়ু উদ্বাস্তুদের প্রাধান্য দেয়া।
৪.ব্যারাক,সেমি পাকা ঘর,ও জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ।
৫.স্বামী-স্ত্রী উভয়ের যৌথ মালিকানা প্রদান।
৬.জেলা প্রশাসন,বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
৭.সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে এই প্রথম গৃহ প্রদানের অনন্য উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন-
>জমি ও গৃহ প্রদানের উদ্যোগ বিশ্বে এই প্রথম।
>ভারতে Pradhan Mantri Awaas Yojana(Grameen) or PMAY-G এর আওতায় দীর্ঘ মেয়াদে সুদের বিনিময়ে গৃহ নির্মাণ চালু রয়েছে।উপকারভোগীকে ৫০ হাজার রুপি প্রদান করতে হয়।
>ব্রাজিল ও কলম্বিয়াতে বাজার ভিত্তিক ভূমি সংস্কার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্বল্প সুদে জমি কেনার জন্য ঋণ দেয়া হয়।
>দক্ষিণ আফ্রিকাতে স্বল্প সুদে জমি কেনার মাধ্যমে ভূমি সংস্কার হয়েছে।
>দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভূমি সংস্কার হয়েছে কিন্তু গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়নি।
>জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য ফ্ল্যাট প্রদান বিশ্বে এই প্রথম।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মোট ২,২৩,২৪৪ টি গৃহ প্রদান করা হচ্ছে, যার অগ্রগতি নিম্নরূপ-
>২৩ জানুয়ারি ২০২১-এ প্রদান করা হয়েছে ৬৫,০৮০ টি গৃহ,
>২০ জুন ২০২১-এ প্রদান করা হয়েছে ৫৩,৩৪০ টি গৃহ,
>ডিসেম্বর ২০২১-এ প্রদান করা হবে ১,০০,০০০ টি গৃহ।
সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সুবিধাসমূহঃ
>দুই শতাংশ জমি,
>অর্ধপাকা ঘর,
>পানীয় জল,
>কমিউনিটি ক্লিনিক,
>বিদ্যালয় ও খেলার মাঠ,
>ঋণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি,
>কমিউনিটি সেন্টার,বাজার,
>মসজিদ ও কবরস্থান।

আর্থিক মূল্যমানে প্রাপ্ত সুবিধাসমূহঃ
>জমির মূল্য,গৃহ ঋণ- ৩০,০০০/-
>গৃহনির্মাণ ও মালামাল পরিবহন -২,০৫,০০০/-
>নলকূপ স্থাপন -৭,০০০/-
>নামজারি ও রেজিষ্ট্রেশন-১,৭০০/-
>বিদ্যুৎ সংযোগ ও ওয়ারিং-৭,০০০/-

ঋণ সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সহায়তাঃ
>ঋণ সুবিধা-৩০,০০০/-
>দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ
>ভিজিএফ চাল,মাতৃত্বকালীন ভাতা,বয়স্ক ভাতা,অন্যান্য ভাতা প্রদান।
>পুকুরে মৎসচাষের ব্যবস্থা।
>হাঁস-মুরগীর খামার।

জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য খুরুশকুলে বাকঁখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়া হচ্ছে বিশেষ আশ্রয়ণ,যাতে থাকবেঃ
>৫ তলা বিশিষ্ট ১৩৯ টি ভবন,
>প্রতিটি ভবনে ৩২ টি পরিবার,
>মোট-৪,৪০৯ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে,
>প্রতিটি ফ্ল্যাট ৪০৬.০৭ বর্গফুট হবে,
>জীবনমান উন্নয়নে পর্যটন জোন ও শুটকি চাষের ব্যবস্থা।
ইতোমধ্যে ২০ টি ভবনে ৬৪০ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।যা বিশ্বের একক বৃহত্তম জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্প।

দারিদ্র বিমোচনের এ মডেল ব্যাপকভাবে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে,যেমন-
>নতুন নতুন চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে এবং অর্থনীতি বেগবান হচ্ছে।
>গ্রামীণ অর্থনীতিতে,তথা নির্মাণ শ্রমিক,ইটভাটা,বালু,সিমেন্ট,রড,টিন,পরিবহন ব্যবসাতে প্রায় ২,২০০ কোটি টাকার সরবরাহ হচ্ছে,যেখানে করোনা অতিমারির কারণে স্থবির বিশ্ব,জীবন জীবিকা নিশ্চল এবং অর্থনৈতিক মন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

দারিদ্র বিমোচনে,উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশকে মুক্তিযুদ্ধ তথা বঙ্গবন্ধুর চেতনা এবং আদর্শে পরিচালিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’কে অনেক চ্যালেঞ্জ এর সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং হবে,যার মধ্যে রয়েছে আইনের শাসন,দূর্নীতি,আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা রেড টেপিজম,রাজনৈতিক স্থবিরতা,দলীয় কোন্দল এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ।আমরা বিশ্বাস করি জননেত্রী শেখ হাসিনা শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জাতির পিতার সোনার বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন,এই মুহূর্তে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিকল্প কেবল শেখ হাসিনা নিজেই।তাই তারই ভাষায় বলতে হয় শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে,এগিয়ে যাবে।তিনি বিশ্বের কাছে আজীবন এক ও অনন্য হয়ে থাকবেন।তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।
জয় বাংলা,
জয় গুরু।

তথ্যসূত্রঃ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

মোঃ মোস্তাফিজ চৌধুরী,
আজন্ম শিক্ষার্থী।
০৬ জুলাই ২০২১।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।