দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিকথা

১৫ জুলাই, ২০২১ : ৫:১৩ অপরাহ্ণ ৩৬৩

জালাল আহমেদ,দক্ষিণ কোরিয়া থেকে : দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ যা কোরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণ অংশটি নিয়ে গঠিত। এর সরকারি নাম কোরীয় প্রজাতন্ত্র (কোরীয়: 대한민국)। দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তরে উত্তর কোরিয়া, পূর্বে জাপান সাগর, দক্ষিণে ও দক্ষিণ-পূর্বে কোরিয়া প্রণালী, যা জাপান থেকে দেশটিকে পৃথক করেছে। এবং পশ্চিমে পীত সাগর। সউল হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম শহর ও রাজধানী।

অবিভক্ত কোরিয়া মূলত জাপানিদের দখলে ছিল। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাবার সময় জাপানিরা সমাজতান্ত্রিক দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তার ফলে অবিভক্ত কোরিয়া ২ ভাগে ভাগ হয়ে যায়| তখন উত্তর কোরিয়া ১৯৫০ সালে সমাজতান্ত্রিক দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের মতাদর্শে সমাজতান্রিক ব্লকে চলে যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া পুঁজিবাদি আমেরিকার মতাদর্শে এর পুঁজিবাদি ব্লকে যোগ দান করে। তখন থেকে কোরিয়া ২টি ভিন্ন নাম যথা উত্তর ও দক্ষিণ তথা ২টি ভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতে চলতে শুরু করে। দক্ষিণ কোরিয়াতে আমেরিকার পুঁজিবাদ আর উত্তর কোরিয়াতে সোভিয়েত ইউনিউনের মত সমাজতন্ত্রবাদ চালু হয়। এটিই ১৯৪৮ সালে পথ দেখিয়েছে অবিভক্ত কোরিয়াকে বিভক্তিকরণ। উত্তর কোরিয়ার সরকারি নাম রাখা হয় গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি নাম রাখা হয় প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া এর রাজধানীর হয় পিয়ং ইয়াং আর দক্ষিণ কোরিয়া এর রাজধানীর হয় সউল। ১৯৫০-১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের পরে ধ্বংসপ্রায় দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৯০ সালে এসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিগুলির একটিতে পরিণত হয় এবং সেই সঙ্গে এশিয়ান চার ড্রাগনে পরিণত হয়। কোরিয়া জনগণের মাথাপিছু আয় প্রায় ৪৫,০০০ হাজার ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনগণ প্রায় ৫,০৫০,০০,০০০ জন।

দক্ষিণ কোরিয়া অন্য দেশের তুলনায় কেন সেরা ? পৃথিবীর অনেক দেশে যা অকল্পনীয় দক্ষিণ কোরিয়াতে সেটা বাস্তবিক ভাবেই দেখছি। শুধু অর্থনীতিতে দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়েছে তা নয়। কোরিয়ার শহরগুলোকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ এবং সরকার। একটি মেয়ে একা সারারাত সিউলের অলিগলি নিরাপদে হেটে বেড়াতে পারবে যেটা বেশিরভাগ দেশে একেবারেই অসম্ভব। কোটি কোটি টাকা নিয়ে সারারাত ঘুরলেও কেউ জিজ্ঞাসা করে না কেন এতরাত ঘুরছি। ছিনতাই, চুরি,ডাকাতি আর বাটপারি আজ পর্যন্ত দেখলাম না। পুলিশ বাস্তবিকই জনগণের বন্ধু। তারা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করে। একজন দিন মজুরও একমাসের বেতন দিয়ে একটা গাড়ী কিনতে পারে । একজন কোম্পানির মালিক কাজ শেষে একজন কর্মচারিকে শুভেচ্ছা জানাতে কখনও ভুলে না । একজন মালিক একজন কর্মচারিকে মনে করে সে আমাকে সাহায্য করছে। তাইতো দিনশেষে খাওয়ার টেবিলে মালিক কর্মচারী একই ম্যানু একসাথে বসে খায়। সকালে অফিসে এসে মালিক নিজেই তার অফিস গোছানো ঝাড়ু দেওয়াসহ সব কাজ করেন। তাতে তার আত্মমর্যাদা খুন্ন হয় না। ট্রাফিক ছাড়াই চলছে কৌটি কৌটি গাড়ী তারপরও নেই কোথাও যানজট । একটা ছোট শিশুকেও দেখিনি তারা সিগনাল অমান্য করে রাস্তা পার হতে, কিংবা গভীর রাতে সিগনাল অমান্য করে ড্রাইভার গাড়ী চালিয়ে চলে গেছে। ধর্মীয় ক্ষেত্রে যে যার ধর্ম পালন করছে সমস্যা নাই যদিও এখানে মুসলিম দেশটির মোট জনসংখ্যার ০.২% ।

সরকারী কিংবা বেসরকারি অফিসে কোন প্রকার নেই হয়রানি, সেখানে সর্বোচ্চ সেবা ১০ মিনিটের মধ্যই নিশ্চিত করা হয়। ব্যাংক কার্ড থাকলে আপনি বাস, ট্রেন,শপিং মল থেকে শুরু করে এটি এম বুথ সব জায়গায় ব্যাবহার করতে পারবেন কোন সমস্যা নেই। প্রযুক্তিতে বিশ্বের সেরা Samsung, Hyundai, LG, KIA, Daio, Carrier, সহ প্রায় দশটি কোম্পানি এদের দখলে। ইন্টারনেট স্পিড বিশ্বের ১ নম্বর 5G । বিমান পরিসেবার দিক দিয়ে কয়েক বছর যাবৎ বিশ্বের নামি দামি এয়ারপোর্ট গুলোকে পিছনে ফেলে ১ নম্বর স্হান দখল করে আছে ইনচন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এরকম অসংখ্য উদাহারণ আছে। এরকম অনেক উদাহরন আছে সাউথ কোরিয়ায়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।