ঔদ্ধত্য নাসির টাকার জন্য হাতকড়া পড়ান, টাকা পেলে ছেড়ে দেন (পর্ব ২)

১৭ জুলাই, ২০২১ : ১২:২২ অপরাহ্ণ ৯৯৭
এএসআই নাসির

তেপান্তর রিপোর্ট: (প্রথম পর্বের পর) গত ৭ই জুলাই এএসআই নাসিরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং সম্প্রতি সিঙ্গারবিলের কাশীনগর গ্রামে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ করতে দুজন সংবাদকর্মী কাশীনগর যান। তার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে এমন খবর পেয়ে এএসআই নাসির দ্রুত ওই এলাকায় যান এবং কাজ শেষে ফেরার পথে ওই দুজন প্রতিবেদকের পথরোধ করেন। তিনি তাদেরকে এলাকায় প্রবেশের কারন জানতে চান এবং পরিচয়পত্র যাচাই করে সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া স্বত্বেও তিনি তাদেরকে লাঞ্চিত করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার ব্যাক্তিগত মুঠোফোনে তাদের ছবি তুলে রাখেন এবং ভবিষ্যতে দেখে নেবার হুমকি দেন।

এএসআই নাসিরের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরনের বর্ননা দিয়ে কাশীনগর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব মিয়া বলেন, “গত ১৬ তারিখে আমার বাড়িতে আমার বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জেলা শহর থেকে আমার তিনজন দাওয়াতি মেহমান আসেন। এএসআই নাসির স্যার তাদেরকে আমার বাড়ির কিছুটা আগে আটক করেন এবং তাদেরকে বলেন আমার কাছে খবর পাঠানোর জন্য যাতে আমি গিয়ে তাদেরকে সাথে করে নিয়ে আসি।যেহেতু আমার নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল, আমি প্রচন্ড ব্যাস্ততার কারনে স্বশরীরে গিয়ে উনাদেরকে নিয়ে আসা সম্ভব ছিল না। উনি তাদেরকে দীর্ঘক্ষন আটকে রাখেন এবং নাসির বলেন তিনিতো আর আমার বিয়ের দাওয়াত পাননি, তাহলে তিনি কীভাবে জানবেন কার বিয়ে! শেষ পর্যন্ত থানার ওসির মধ্যস্থতায় ওই মেহমানরা বিয়েবাড়িতে আসার সুযোগ পান।”

এছাড়াও একই গ্রামের আলামিন মিয়া বলেন,” কিছুদিন আগে এএসআই নাসির আমার বাড়ির সামনেই আমাকে দীর্ঘক্ষন দাড় করিয়ে রাখেন এবং বলেন আমার চেহারা নাকি মাদকসেবিদের মতন আর আমি নিশ্চিত মাদক চোরাকারবারের সাথে জড়িত। অথচ আমার পচিশ বছরের জীবনে নেশাতো দূরে থাকুক আমি একটি সিগারেটও খাইনি এবং একথা এলাকার সবাই জানে। পরবর্তীতে আমার বাবার নাম পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আর আমার প্রতিবেশীদের উত্তেজিত মনোভাব লক্ষ্য করে তিনি সেখান থেকে কেটে পড়েন।”

নলগড়িয়া গ্রামের জানি বেগম তেপান্তরের কাছে বলেন,” আমার ভাই মনির মিয়া পূর্বে মাদক বেচা-কেনার সাথে জড়িত ছিল। কয়েকমাস আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন তাকে মাদকসহ গ্রেফতার করে এবং একাধিক মাদক মামলায় সে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে কিছুদিন আগে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। দীর্ঘদিন জেল খেটে তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসে।পরিবারের কথা চিন্তা করে তিনি মাদক কারবার ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করেন। কিন্তু জেল থেকে আসার এক সপ্তাহ না পেরোতেই নাসির দারোগা হটাৎ করে বাড়িতে এসে তার হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে ত্রিশ হাজার টাকা দিতে বলেন। আমার ভাই বারংবার উনাকে বলেন যে তিনি মাদকের ব্যাবসা ছেড়ে দিয়েছেন কিন্তু নাসির দারোগা কোন কথাই শোনতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত নগদ চৌদ্দ হাজার টাকা নিয়ে আমার ভাইকে ছেড়ে দিয়ে চলে যান। এর পাচদিন পরে তিনি আবার আসেন এবং পুনরায় দশ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে বিভিন্ন অজ্ঞাত মাদক উদ্ধারের মামলায় আমার ভাইকে পলাতক আসামি দেখিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখান। জেল থেকে আসার পর বিভিন্ন অজুহাতে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে, হাতে হাতকড়া পরিয়ে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে প্রায় পঁচানব্বই হাজার টাকা আদায় করে এই নাসির দারোগা। যেহেতু আমার ভাই পূর্বে মাদক ব্যাবসায়ী ছিল তাই তাকে ফাসিয়ে দেয়া সহজ এবং তার অভিযোগ কেউ আমলে নিবে না এই ভেবে নাসির দারোগা সপ্তাহ না পেরোতেই আমার ভাইয়ের বাড়িতে হানা দেয়। তার পকেট ভারী করতে গিয়ে আমার ভাই ধীরে ধীরে পুনরায় মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।”

চলবে…

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।