ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেল সুপার ও ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

১৯ জুলাই, ২০২১ : ১১:৩৪ অপরাহ্ণ ১৫৯০

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক আসামি জামিন পাওয়ার পর পুনরায় কারাগারের ভেতর থেকে তুলে এনে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলার আবেদন করে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জুলাই) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আয়েশা বেগমের আদালতে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরের মোছা. রেজিয়া বেগম নামের এক নারী বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন।

এজাহারে আসামি করা হয়েছে, জেলা কারাগারের সুপার ইকবাল হোসেন, জেলার দিদারুল আলম, ডেপুটি জেলার রেজাউল করিম, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরানুল ইসলাম, পরিদর্শক (অপারেশনস) সোহরাব আল হোসাইন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার চক্রবর্তী।

আদালতে দায়ের করা মামলার এজাহার ও বাদী মোছা. রেজিয়া বেগম সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ জুন বাদী মোছা. রেজিয়া বেগমের ছেলে হাফিজ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। গত ১৫ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হাফিজকে জামিন প্রদান করে ছাড়পত্র দেন। কিন্তু ১৫ জুলাই রাত পর্যন্ত কারাগারের ফটকে রেজিয়া বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা হাফিজের জন্য অপেক্ষা করলেও সেদিন বের হননি। পরদিন বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) সোহরাব আল হোসাইন, এসআই বাবুল ও এসআই সুজন কুমার চক্রবর্তী কারাগারে গিয়ে জেল সুপার ইকবাল হোসেন, জেলার দিদারুল আলম, ডেপুটি জেলার রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগসাজশে একটি লাল গাড়ি দিয়ে হাফিজ ভূঁইয়াকে উঠিয়ে সদর মডেল থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তাকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে তাকে।

বিষয়টি জানতে পেরে রেজিয়া বেগম ও তার মেয়ের জামাতা মন মিয়া সদর মডেল থানায় যায়। থানায় যাওয়ার পর পরিদর্শক (অপারেশনস) সোহরাব আল হোসাইন আটক হাফিজ ভূঁইয়াকে ছাড়তে মোটা অংকের টাকা তাদের কাছে দাবি করে, তা না হলে হাফিজকে ক্রসফায়ারে দিয়ে দিবে বলে ভয় দেখায়। পরে পরিদর্শককে (অপারেশনস) বাধ্য হয়ে তারা ৫ হাজার টাকা দিলে রাতের ভেতরে হাফিজ ভূঁইয়াকে ছেড়ে দিবে বলে জানায়। কিন্তু ৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর পুনরায় সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস), এসআই বাবুল ও এসআই সুজন কুমার চক্রবর্তী জানায় দাবিকৃত মোটা অংকের টাকা না দিলে তার ছেলেকে (হাফিজ ভূঁইয়া) ডাকাতি মামলায় চালান দিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে একমাস আগের এক মামলায় অজ্ঞাত আসামির স্থলে হাফিজ ভূঁইয়াকে আসামি করে আদালতে চালান দেয়। এজাহারে গত ১৬ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে ১৭ জুলাই জেলা কারাগার ও সদর মডেল থানার সিসিটিভি ফুটেজ আদালতের মাধ্যমে সংগ্রহের আদেশের আবেদন করেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী নিজাম উদ্দিন খান (রানা) বলেন, ‘আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন। এই বিষয়ে পরবর্তী কর্মদিবসে আদেশ দিবেন’।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ‘মামলার বিষয়টি আমি অবগত নয়। তাই কিছু বলতে পারছি না’।

জেলা কারাগারের সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কারাগারে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিনিয়ত পুলিশ আসে। গ্রেফতারের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কারাগারের সীমানা প্রাচীরের ভেতর থেকে কোন আসামিকে গ্রেফতারের নিয়ম নেই। তাকে আসামি করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি’।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।