ধর্মঘটে আশুগঞ্জ থেকে ৭ জেলায় সার সরবরাহ বন্ধ

২০ নভেম্বর, ২০১৯ : ৩:০৯ অপরাহ্ণ ১৮০

তেপান্তর রিপোর্ট:  নতুন পরিবহন আইন সংশোধনসহ ৯ দফা দাবিতে সারা দেশে ধর্মঘট পালন করছে ট্রাক ও কাভারভ্যান চালক ও শ্রমিক ইউনিয়ন। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট। এর প্রভাব পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিল্প ও বন্দর নগরী আশুগঞ্জেও।
ধর্মঘটের কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় আশুগঞ্জ সারকারখানা থেকে দেশের সাতটি জেলায় সার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আশুগঞ্জ নদীবন্দর ও দেশের বৃহত্তম ধানের মোকাম থেকে সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় শ্রমিক নেতারা জানান, নতুন সড়ক আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বা কেন্দ্রীয় কমিটির পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, পরিবহন শ্রমিকদের এ ধর্মঘট অব্যাহত বা দীর্ঘায়িত হলে ইরি-বোরো মৌসুমে আশুগঞ্জ সারকারকানার অধিভূক্ত জেলাসমুহে সার সংকট দেখা দেয়ার আশংকা রয়েছে। অন্যদিকে নৌ-বন্দর ও ধানের মোকাম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ ইদন মিয়া মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক সরকার বলেন, নতুন সড়ক আইন প্রয়োগের ফলে শ্র্রমিকদের রাস্তায় গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ আইনে ওভারলোডিংসহ বিভিন্ন ধারায় যে পরিমাণ জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে তা কোন শ্রমিকের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। শ্রমিকেরা ওভারলোডিং করতে চায় না, তারা ইচ্ছা করে কোন দূর্ঘটনা ঘটায় না। তারা জানান, আমাদের শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছে।

জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম নাসির বলেন, শ্রমিক ছাড়া মালিক অচল। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা শ্রমিকদের ধর্মঘটকে সর্মথন জানিয়েছেন।

জেলা সার সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান, ট্রাাক শ্রমিকদের ধর্মঘটের ফলে বুধবার সকাল থেকে কারখানা হতে সার উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সারের মৌসুম। এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে দেশে সারের সংকট দেখা দিতে পারে।
আশুগঞ্জ বন্দরে পন্য নিয়ে আসা এমভি তানিশা ও এমভি মেমোরি-১ কার্গোর মাস্টাররা জানান, পরিবহন ধর্মঘটের ফলে ট্রাক না চলায় জাহাজ থেকে পন্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে জাহাজ মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবার পাশাপাশি যথা সময়ে নির্ধারিত স্থানে পন্য পৌঁছে দেয়া সম্ভব নয়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।