আখাউড়ায় চাচাকে বাবা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি

২৪ জুলাই, ২০২১ : ২:২৯ অপরাহ্ণ ১৪৭৩
ছবি: স্বপন মিয়া:

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কাগজপত্রে চাচাকে বাবা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি করছেন স্বপন মিয়া নামে এক ব্যক্তি। স্বপন আখাউড়ার আজমপুরের টানপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ছামাদের ছেলে। তবে বর্তমানে স্বপন তার বাবার নাম আব্দুর রহমান বলে দাবী করে আসছেন যিনি সম্পর্কে তার চাচা হোন এবং একই সাথে আব্দুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। স্বপন মিয়ার বাবার পরিচিতির বিষয়ে তাকে একাধিক প্রশ্ন করা হলে তার বাবা কে এটা তিনি নিজেও জানেন না বলে জানান প্রতিবেদককে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বপন মিয়ার বাবার নাম আব্দুল ছামাদ ও মায়ের নাম আয়েশা খাতুন। স্বপনের জন্ম ২৫ অক্টোবর ১৯৭১ সালে। তারা তিন ভাই। তাদের নাম বাবুল মিয়া, লিটন মিয়া ও স্বপন মিয়া।

স্বপনের ভাই লিটনের বিদেশ যাওয়ার জন্য ২০০৭ সালের ২০ জুন টানপাড়ার মৃত আজিবুদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মোঃ শাহজাহান ভূইয়ার কাছে তারা তিন ভাই বাড়ির জমি বিক্রি করেন। এবং সেই দলিলে তাদের তিন ভাইয়ের বাবার নাম লিখা আছে আব্দুল সামাদ এবং মায়ের নাম আয়েশা খাতুন। তাহলে স্বপনের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান হলো কিভাবে? এই প্রশ্নের জবাবে স্বপন বলেন, আব্দুল ছামাদ তার পালিত পিতা এবং মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান তার আসল পিতা। আপন চাচার কাছে পালিত সন্তান হিসেবে থাকার যৌক্তিকতা কতটুকু জানতে চাইলে তিনি এর কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এছাড়াও আয়েশা খাতুন স্বপনের মা অর্থাৎ আব্দুল ছামাদের স্ত্রী, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান যদি স্বপনের পিতা হয়ে থাকে তাহলে আয়েশা খাতুন কাগজপত্রে কিভাবে স্বপনের মা হোন? জায়গা বিক্রির দলিলে দেখা গেছে স্বপনের মা ও আব্দুল ছামাদের স্ত্রী আয়েশা খাতুন, আবার স্বপনের ভোটার আইডি কার্ডে দেখা যায় আব্দুর রহমানের স্ত্রী আয়েশা খাতুন। তবে তেপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের প্রকৃত স্ত্রীর নাম হলো লাইলি বেগম, যিনি এখনো জিবিত আছেন। অথচ স্বপনের চাকরির ক্ষেত্রে সব কগজপত্রে বাবা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের নাম থাকলেও মা হিসেবে কোথাও লাইলি বেগমের নাম নেই।

এবিষয়ে স্বপন বলেন, “আব্দুল ছামাদের স্ত্রী আয়েশা ( আমার মা) ছামাদকে ছেড়ে দিয়ে আব্দুর রহমানের কাছে গিয়ে বিয়ে বসেন। তবে বিয়ের কোন কাবিন হয়নি”।

নাম গোপন রাখার শর্তে এলাকাবাসীর অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, স্বপন মূলত জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেজে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সকল সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। তিনি রেলওয়েতে চাকরি করছেন। এবিষয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে আখাউড়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের (টানপাড়া) সাবেক কাউন্সেলর বাহাদুর খান তেপান্তরকে জানিয়েছেন স্বপনের বাবা আব্দুল ছামাদ। এবং স্বপন,বাবুল ও লিটন তারা আপন তিন ভাই।

একই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সেলর তকদির খান খাদেম বলেন, তাদেরকে নামে চিনি তবে ভালো ভাবে চিনিনা।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।