লকডাউন বিধি নিষেধের মধ্যেই আখাউড়া ইউএনওর ফেইসবুক লাইভে নৌকা ভ্রমণ

২৪ জুলাই, ২০২১ : ৯:১৬ অপরাহ্ণ ৭৬১

আশরাফুল মামুন: মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঈদের পরে ২৩ জুলাই হতে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেন। আর এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে ইউএনওর দলবলে নৌকা ভ্রমন অনুষ্ঠিত হয়েছে। লকডাউনের প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক জনপ্রতিনিধির আয়োজনে তিতাস নদীতে নৌকা ভ্রমন হয়েছে। তিতাস নদীতে নৌকা ভ্রমণ করার সময় চেয়ারম্যান স্বপন ভুইয়ার ফেইসবুক পেইজ থেকে সরাসরি লাইভ করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে চেয়ারম্যান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বললেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলেন নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নৌকা ভ্রমনে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ভূইয়া, ইউপি সদস্য কুতুব উদ্দিনসহ ৩০/৩৫জন অংশ নেয়। উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ভূইয়া তার ফেসবুক আইডি থেকে নৌকা ভ্রমনের দৃশ্য লাইভ প্রচার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নৌকার ছাউনিতে বসা চেয়ারম্যান সহ বেশির ভাগ লোকজনের মুখে মাস্ক ছিল না। এতে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সরকারের এ বিধিনিষেধের মধ্যে শুক্রবার বিকালে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ভূইয়ার আয়োজনে তিতাস নদীতে নৌকা আনন্দ ভ্রমন হওয়ায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। আজমপুর নৌকা ঘাট থেকে নৌকা ভ্রমন শুরু হয়। নৌকায় ভ্রমন করেন নারী-পুরুষ, শিশুসহ নানান বয়সী ৩০/৩৫ জন লোক। এসময় ভ্রমনকারীরা একে অপরের সাথে গা ঘেষাঘেষি করে বসেন এবং ইউএনও রোমানা আক্তার ছাড়া কারও মুখে মাস্ক ছিল না। নৌকা ঘাটে যাওয়ার রাস্তার মাঝখানে ইউএনও’র সরকারী গাড়ি রাখায় চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েন ঘাটে যাওয়া সাধারণ মানুষ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ভূইয়া বলেন, নৌকা ভ্রমনের আয়োজন করি নাই। উপজেলা চেয়ারম্যান আমাকে বলেছিল একটা প্রকল্প দেওয়ার জন্য। ইরিগেশন প্রজেক্ট এবং বিনোদন কেন্দ্রের জন্য একটা ঘাটলা করার। বিষয়টি ইউএনও সাহেবকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। নৌকায় এত লোকজন থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ও আমার পরিবারের লোকজনসহ এলাকার কিছু লোক এবং ইউএনও স্যারসহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন ছিলেন।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তারের বক্তব্যের জন্য মোবাইল ফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে রুমানা আক্তার কোন কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।