দোকানের শাটার লাগিয়ে কুপিয়ে ৫ জনকে হাসপাতালে পাঠালো মহিউদ্দিন নগরের মিজান ও হান্নান গং

২৫ জুলাই, ২০২১ : ৯:০৯ অপরাহ্ণ ৩৬৭৭

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মহিউদ্দিন নগর গ্রামে সকাল বেলা চায়ের দোকানে ঢুকে শাটার লাগিয়ে ৫ জনকে কুপিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ওই এলাকার আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত মিজান মিয়া (৪১) ও হান্নান মিয়া (৪৮)। তার দলবল নিয়ে এই হামলা চালানো হয়। মিজান মহিউদ্দিন নগর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে ও হান্নান মৃত আলী আজ্জমের ছেলে। তাদের হামলায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন হাজি বাড়ির কাহার মুন্সীর ছেলে ফাইজুল্লাহ, তার ভাই শফিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আবুল হোসেনের ছেলে আবু তাহের ও নূর মোহাম্মদের ছেলে জসিম। এ ঘটনায় আবুল হোসেনের ছেলে আহত নাঈম বাদি হয়ে সদর থানায় ১৩ জনকে আসামী করে এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারে আসামীরা হলো, হান্নান মিয়া, মিজান মিয়া, সোরাপ মিয়া, সুজন মিয়া, আবু তৈয়ব ভুলু, শাহীন মিয়া, হুমায়ুন, মুরাদ মিয়া, মান্নান মিয়া, রাকিব মিয়া, সাইদুল মিয়া, ফইজুল, ও বাদল মিয়া।

সরেজমিনে গিয়ে ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জায়গা সম্পত্তি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২৫ জুলাই রোববার ফজরের নামাজ পড়ে সকাল সাড়ে ৬টায় শফিকুল ইসলাম সফু, ফাইজুল্লাহ, জসীম ও আবু তাহের স্থানীয় মোশাররফের দোকানে চা খেতে যান। এসময় মিজান ও হান্নান মিয়া তাদের দেখতে পেয়ে তার দলবল দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে দোকান বন্ধ করে তাদেরকে এলোপাতারি কুপাতে থাকে। তখন ১ নম্বর আসামী হান্নান মিয়ার নির্দেশে ২ নম্বর আসামী মিজান রাম দা দিয়ে শফিকুল ইসলাম সফুর মাথায় কুপ দেয়। তখন মাথা ফেটে গিয়ে ভয়ানক ভাবে হাড়-মাংস বেড়িয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ১০টি সেলাই দিয়ে মাথা জোড়া লাগানো হয়। একই ভাবে সবাইকে কুপিয়ে ও গাই দিয়ে মারাত্নক ভাবে রক্তাক্ত করা হয়। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, হামলার এই সময় দোকানের দরজা জানালা বন্ধ করে ফেলা হয়েছিলো।
এক পর্যায়ে আহতরা প্রাণে বাচার জন্য চিৎকার শুরু করেন, তখন আশপাশের মানুষ জড়ো হতে শুরু করলে হামলাকারীরা সেখানে ১০/১২টি ককটেল বিষ্ফোরন ঘটায়। ফলে মূহুর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ককটেলের ভিতরে থাকা কাচের টুকরোর আঘাতে অনেক নিরপেক্ষ লোক আহত হয়েছেন।

হামলায় আহত শফিকুল ইসলাম সফুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সথে পাঞ্জা লড়ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকার মানুষদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুই নম্বর আসামী মিজান দীর্ঘ দিন ধরেই এলকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।

কামাল উদ্দিন নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, মিজান মূলত ডাকাত ছিলো। ২০/২৫ বছর আগে সে এলাকার পাশের নদীর পাড়ে সে ডাকাতি করতো। এছাড়াও সে এলাকায় বিভিন্ন কু-কর্ম করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। বর্তমানে সে কোন কাজ কর্ম বা ব্যবসা বাণিজ্য করছেনা। এলাকায় থেকে বিভিন্ন জগড়া ফ্যাসাদ তৈরি করে ফায়দা লুটে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের ৫/৭টি মামলা রয়েছে। সে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে।

এদিকে আহতদের স্বজনেরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, এক নম্বর অভিযুক্ত হান্নানকে পুলিশ আটক করার পর দশ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তীর এস আই সামাদের দিকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস আই সামাদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলামই না। আসামীকেও দেখিনি।

থানা সূত্র জানিয়েছে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।