আশুগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, মামলা নেয়নি পুলিশ

২৭ জুলাই, ২০২১ : ৯:৩৯ অপরাহ্ণ ১১৩১

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হাজী ইদ্রিস মিয়ার বাড়িতে পূর্ব শত্রুতার জেরে গভীর রাতে হামলা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। কিন্তু এঘটনার পর আশুগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ। বরং মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটুক্তি করেছেন থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম। এদিকে মামলা গ্রহন না করে বিষয়টি থানায় মিমাংসা করার জন্য বাদী পক্ষকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে থানা থেকে। এমনটাই অভিযোগ।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পূর্ব বিরুধের জের ধরে গত ২২ জুলাই রাত ১১টায় মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস মিয়ার বাড়িতে একদল সশস্ত্র লোক হামলা চালায়। তখন বাড়ি ঘর কুপিয়ে ও ভাংচুর করে বাড়ির লোকদের মারপিট করা শুরু করে। এসময় মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস মিয়ার উপর হামলা করতে যায় তারা । যদিও বাধার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ইদ্রিস মিয়ার উপর কোন আঘাত করতে পরেনি। কিন্তু ইদ্রিস মিয়ার ছেলে, নাতী ও অন্যান্যদের মারপিট করে দুর্বৃত্তরা। এরপরই বাড়ির নাড়ীদের স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন গয়না লুট করে তারা। এক পর্যায়ে ডাকাত ভেবে বাড়ির লোকেরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকেরা জড়ো হয় এবং দেখতে পায় তারা হলো পাশের গ্রাম শরীফপুরের কান্দাপাড়ার আব্দুল হামিদের ছেলে মানিক মিয়া, মানিক মিয়ার ছেলে কাদির, মৃত আব্দু মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে সাজিদ মিয়া, তার আরেক ছেলে আরাফাত, আব্দু মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া, আব্দু মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া, তার আরেক ছেলে আলমগীর, ও জারু মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া।

মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার চিত্র।

মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মিজান মিয়া জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর এলাকার সর্দার মাতব্বররা বলেছেন বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা করার জন্য। কিন্তু গত ২৬ জুলাই সালিশে আমরা গেলেও ওই হামলাকারীরা আসেনি। ফলে সালিশ হয়নি। অপরদিকে থানার ওসি বলছেন আমরা যেন থানার গোল ঘরে গিয়ে সালিশ করি। থানায় মামলার জন্য অভিযোগ করার পর থেকেই ওসি মামলা গ্রহন না করে শুধু সালিশের কথা বলছেন। এদিকে আশুগঞ্জ থানার লালপুর বিটের এস আই জিয়াও থানায় গিয়ে সালিশের কথা বলছেন। তিনি এটাও বলেছেন যে, যদি আমরা থানায় গিয়ে সালিশ না করি তাহলে অপর পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে মামলা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে এস আই জিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, আমরা মিমাংসার কথা বলেছি শান্তির কথা ভেবে।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মিজান মিয়া থানায় মামলা করতে গেলে থানার মুন্সিকে দিয়ে একটি অভিযোগ লিখতে বলেছেন বড় কর্তারা। মিজান মিয়ার অভিযোগ, যেই অভিযোগপত্রটি থানা থেকে লিখে দেওয়া হয়েছে সেখানে অনেক তথ্যই আড়াল করা হয়েছে এবং গুরুত্বহীন ভাবে লিখা হয়েছে। যেখানে একটি মামলার কাগজ কয়েক পৃষ্ঠা হয় সেখানে এক পৃষ্ঠার অর্ধেক জায়গায় ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরন লিখা হয়েছে এবং সেই কাগজে আবেদনের তারিখও লিখা হয়নি। পরে সেই কাগজের একটি কপি থানায় জমা রাখা হয়েছে যা এখনো মামলা হিসেবে নথীভূক্ত হয়নি। এবং কাগজ জমা রাখার কোন প্রমান আমাকে দেওয়া হয়নি। এবং ওসি তদন্ত মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “মুক্তিযোদ্ধার কোন ভ্যালু নাই”। আশুগঞ্জ থানা পুলিশ একটি অসহায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে প্রহসন করছে।

এবিষয়ে ওসি তদন্ত মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে লালপুর বিটের এস আই জিয়া ওসি তদন্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন “ওসি তদন্ত বলেছেন মুক্তিযোদ্ধা বেহেস্তে যেতে পারবেন বলে কি আপনাদের সবাইকে বেহেস্তে নিয়ে যেতে পারবেন”?

মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার চিত্র।

মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার ঘটনা সত্য স্বীকার করে ২৭ জুলাই সন্ধায় আশুগঞ্জ থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ জানান, তার সাথে কোন পক্ষেরই কথা হয়নি। কথা হয়েছে ওসি তদন্তের সাথে। আপোষের কথা ওসি তদন্ত বলেনি, বাদীপক্ষ থেকে আপোষের কথা বলা হয়েছে। উভয় পক্ষই আপোষের জন্য রাজি, এখন সমস্যা কোন জায়গায় বসবে। বিবাদীগণ লালপুর যেতে ভয় পাচ্ছে যদি লালপুরবাসী হামলা করে। আর বাদীপক্ষ ভয় পাচ্ছে যদি বিবাদীগণের নির্বাচিত জায়গায় মিমাংসা হয় আর বিবাদীরা যদি আবার হামলা করে। তাই তারা উভয়পক্ষই দ্বিধায় আছে কোথায় বসবে? তারা সকলেই চায় নিরাপত্তাবেষ্টনিতে মিমাংসা হোক।

আর মুক্তিযোদ্ধাকে কটুক্তির বিষয়ে ওসি বলেন, থানা থেকে এ কথা কেউ বলেনি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা বলেই আমি পুলিশের চাকরিটি পেয়েছি। কোন মুক্তিযোদ্ধাকে কটাক্ষ করে কথা বলার এখতিয়ার কারো নেই। ওসি তদন্ত যদি এমন মন্তব্য করে থাকেন তাহলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করবো কেন এমন মন্তব্য করেছে?

 

 

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।