ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণটিকা নিতে গিয়ে গণভুগান্তির শিকার মানুষ

৭ আগস্ট, ২০২১ : ৪:০১ অপরাহ্ণ ৩৩৩
নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম টিকা কেন্দ্রের ছবি। (সংগৃহীত)

নূসরাত রিতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণ ভুগান্তিতে পরিনত হয়েছে গণটিকা কার্যক্রম। সকাল ৯টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকা পায়নি অনেকে। স্বাস্থ্য বিধির তোয়াক্কা না করে মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে টিকা প্রত্যাশীদের। ফলে জটলা সৃষ্টি হয়েছে প্রতিটি টিকা প্রদান কেন্দ্রে। এছাড়াও অনেকে অভিযোগ করেছেন, সরকার থেকে প্রথমে গণটিকা দেওয়ার জন্য শুধু জাতীয় পরিচয় পত্র থাকলেই চলবে বলে প্রচার করা হলেও বুথে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকার পর যখন টিকা দিতে যাওয়া হয় তখন বলা হচ্ছে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টিকা দেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে রেজিস্ট্রেশন করার পর প্রায় মাস খানেক সময় পেড়িয়ে গেলেও মোবাইলে ম্যাসেজ না আসায় মানুষ টিকা নিতে পারছেন না। কিছু বুথে দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যেই টিকা প্রদান শেষ হয়ে যাওয়ায় বাকিরা টিকা না নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে। অভিযোগ আছে টিকা দেওয়ার বুথে দায়ীত্বে থাকা অনেক আনসার সদস্য টিকা গ্রহীতাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করছেন। সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গণটিকা কার্যক্রম গণভুগান্তিতে পরিনত হয়েছে।

শনিবার (৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা (পশ্চিম) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে গিয়ে দেখা যায় কয়েকশ নারী-পুরুষের ভীর। এই অবস্থায় সাড়ে ১২টার দিকে টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ মানুষ টিকা না দিতে পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এই স্কুলের আশপাশের ফটোকপির দোকান গুলোতে ছিল জাতীয় পরিচয়পত্র ফটোকপি করার ভীর। ভুক্তভুগীরা বলেছেন, তারা জানতেন যে, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিয়েই গণটিকা দেওয়া যাবে। কিন্তু কেন্দ্রে যাওয়ার পর দেখা যায় এর উল্টো চিত্র। পশ্চিম মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা নাজমা বেগম জানিয়েছেন, এই বুথে দায়ীত্বে থাকা কাশেম নামে এক আনসার সদস্য তার সাথে ও তার সাথে থাকা অন্যদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেছেন।

এদিকে স্বজনপ্রীতি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকায় হট্রগোল তৈরি হয় শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের গণটিকার বুথে। সেখানে দেড়-দুই ঘন্টার মধ্যেই সকল টিকা শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে চলে যায়। টিকা বঞ্চিতরা বলেন, প্রথম দুই ঘন্টা বয়স্ক লোকদের টিকা প্রদান করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক নেতাদের স্বজনপ্রীতির কারনে কয়েক ঘন্টা ধরে লাইনে দাড়িয়ে থাকা অনেক বয়স্ক মানুষ টিকা নিতে পারেননি।

এদিকে বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবক ও নিয়মনীতির কোনো বালাই দেখা যায়নি। পাহাড়পুরের কামালমুড়া গ্রামের গোলাপি বেগম (৬৫) এসেছিলেন টিকে দিতে, কিন্তু এতো বড় লাইন দেখে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে। হাত ভাঙা অবস্থায় টিকা নিতে আসা খাটিংঙ্গা গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শরীরের অবস্থাও তেমন ভাল না। কোনো একজন স্বেচ্ছাসেবকও নাই যে অসুস্থ মানুষকে ধরে একটু সাহায্য করবে।’

জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়-কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশনের একদিনের ক্যাম্পেইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ৬১ হাজার২’শ লোককে টিকা দেয়া হবে। সকাল ৯ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত ১১০টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। এজন্যে ১১০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ২২০ জন ভ্যাকসিনেটর, ৯১৮ জন ভলান্টিয়ার এবং ১১০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।