ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাডুবি: দেড় ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিস ও ৭ ঘন্টা পর ডুবুরি হাজির

২৮ আগস্ট, ২০২১ : ২:১৪ অপরাহ্ণ ১২০৭

তেপান্তর রিপোর্ট: গতকাল ২৭ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লইস্কার বিলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক নৌকা ডুবির পর ফায়ার সার্ভিস ও রেস্কিউ বিভাগের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওইদিন বিকেল সোয়া ৫টায় নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলেও সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও রেস্কিউ টিম গিয়েছে দেড় ঘন্টা পর। ঘটনাস্থলে অবস্থানরত বিজয়নগরের আরিফ ৯৯৯ এ ফোন করার পর ১৪ মিনিট লেগেছে ফায়ার সার্ভিসের সাথে ফোনে সংযুক্ত হতে। এর অন্তত দেড় ঘন্টা পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌছায়। যখন তারা পৌছায় তখন তারা সম্পূর্ণ খালি হাতে ছিলো। ফলে তারা উদ্ধার কাজে হাত লাগায়নি। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি দল না থাকায় অন্তত ৭ ঘন্টারও বেশি সময় পর কিশোরগঞ্জ থেকে তাদের এনে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। এর আগ পর্যন্ত এলাকার স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ করেছে। সন্ধ্যায় স্থানীয়রা যখন উদ্ধার কাজ করছিলো তখন ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা পানির উপর সড়কে বসে অবসর সাময় পার করছিলো। তাছাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে ইঞ্জিন নৌকায় রওনা হলে যেখানে ১০/১৫ মিনিট সময় লাগার কথা সেখানে কেন ফায়ার সার্ভিসের দেড় ঘন্টা সময় লাগলো তা একটি বড় প্রশ্ন।

ঘটনার প্রায় ঘন্টা খানেক পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে স্থানীয় লোক ছাড়া উদ্ধার কাজে আর কেউ তৎপর নেই। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি কাউকেই দেখা যায়নি। এই অবস্থায় লইস্কা বিলের মাঝখানে সড়কের মাথায় দূর দূরান্ত থেকে সড়ক দিয়ে মানুষ দৌড়ে এসে ও নৌকা দিয়ে যে যার মতো করে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। মূলত প্রথম দিকে উদ্ধার হওয়া লাশুগুলো ওই এলাকার স্থানীয় মানুষদের দ্বারা উদ্ধারকৃত।

রাতের অন্ধকারে হাওরের চারদিকে থৈ থৈ পানির মাঝখানে একটি সড়ক। সেই সড়ক থেকে ভেসে আসছিল আর্তচিৎকার, চেচামেচি। ওই অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে এলাকার মানুষ মোবাইলের টর্চ লাইট দিয়ে উদ্ধার কাজ করতে দেখো গেছে। যখন রাত সাড়ে ৯টা বাজে তখন সেখানে প্রশাসনিক কর্মকতারা বড় বড় লাইট সিস্টেমসহ হাজির হোন।

এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ২২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোজ আছে আরো অন্তত ৫০ জন। ৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে বিজয়নগরের চম্পকনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আনন্দ বাজারের উদ্যেশে রওনা দিয়েছিলো নৌকাটি। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাছেই হাওরে নির্মানাধীন শিমলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের মাথায় পৌছলে বালুবাহী একটি ট্রলারের সাথে যাত্রীবাহী ইঞ্জিন নৌকাটির সংঘর্ষ হয়। এতেই যাত্রীবাহি নৌকাটি ডুবে যায়।

নৌকাডুবির দেড় ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিস ও ৭ ঘন্টা পর ডুবুরি হাজির হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম ভূইয়া তেপান্তরকে জানান, ঘটনাস্থলে পৌছতে একটু সময় বেশি লেগেছে এটা ঠিক, কারন সেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা একটু খারাপ। কিন্তু দেড় ঘন্টা সময় লাগার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। ডুবুরি দল পৌছাতে ৭ ঘন্টারও বেশি সময় কেন লাগলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি দল নেই। তাদের আনতে হয়েছে কিশোরগঞ্জ থেকে। তাই সময় লেগেছে। তবে তিনি দাবী করেন রাত ৯টার সময় ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কেন ডুবুরি দল নেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এবিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও বড় কর্মকর্তারা জানেন”।

তবে তার এই বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারছেন না ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় এলাকাবাসী। এক মৃত স্বজনের আত্নীয় বিজয়নগরের আরিফ ইসলাম তেপান্তরকে বলেন, এই নৌকা ডুবির ঘটনায় আমার এক আত্নীয় মারা যান। আমি তার লাশ নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছি রাত ১২টায়। তখনও পর্যন্ত ডুবুরি দল এখানে আসেনি। যতটুকু জানতে পেরেছি রাত ২টায় সময় এখানে ডুবুরি দল উপস্থিত হয়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।