ভূমিহীনদের দখলে থাকা খাস জায়গা ধনী ও প্রভাবশালীদের লিজ দেওয়ার অভিযোগ

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ : ৪:৫৫ অপরাহ্ণ ৪০৪

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহিলপুরে ২৫ বছর যাবৎ ভূমিহীনদের দখলে থাকা একটি খাস জায়গা প্রভাবশালীদেরকে লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ২১ সেপ্টেম্বর এবিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন সুহিলপুরের মনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সুহিলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক নায়েব পঙ্কজ ও সদর উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী নিতাই চন্দ্র এই লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করেছেন। প্রভাবশালীদের লিজ দেওয়ার আগে ও পরে জায়গাটি ভোগদখলকারীদের কোন প্রকার নোটিস করা হয়নি।

অভিযোগপত্র ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সুহিলপুর হারুনুর রশীদ কলেজের সামনে ৮ শতক খাস জায়গায় র্দীঘদিন যাবৎ মাছ চাষ ও টং দোকান দিয়ে ব্যবসা করে কোন রকম দিন যাপন করছেন মাখন মিয়া, হাসান মিয়া ও মনু মিয়া। তাদের নিজস্ব কোন ভিটা বাড়ি নেই। এই খাস জায়গাটির পাশেই তারা হেলিপ্যাডের একটি জায়গায় ঘর তুলে থাকছেন। তাদের পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্যও রয়েছে। অপরদিকে বর্তমানে যারা লিজ নিয়েছে তারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল ও সমাজে প্রভাবশালী লোক। তাদের অনেকের বাড়িতেই বিল্ডিং ঘর রয়েছে।

এই অবস্থায় সম্প্রতি খাস জায়গাটি সুহিলপুর মুসলিম পাড়ার মৃত ইউসুফ মেম্বারের ছেলে আল আমীন, সেলু মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া, সুহিলপুর মধ্যপাড়ার আব্দুল জাহেরের ছেলে শফিকুল ইসলাম ও একই এলাকার বকুল মিয়া লিজ নিয়ে নেয়। সরকার থেকে লিজ দেওয়ার আগে জায়গাটি ভোগ দখলকারীদের কোন কিছু জানানো হয়নি। ভোগদখলকারীরা ভূমিহীন ও গরীব লোক হওয়া স্বত্বেও অনিয়মতান্ত্রীক ভাবে প্রভাবশালীদের লিজ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, আমরা ভূমিহীন, জায়গাটি দখলকারী ও গরীব লোক হিসেবে আমরাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জায়গাটির লিজ পাওয়ার কথা। কিন্তু অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে এই লিজ কিছু প্রভাবশালী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের রাস্তায় নামা ছাড়া কোন উপায় নেই।

বিষয়টি জানতে চাইলে সুহিলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মোঃ তোফাজ্জল বলেন, এই লিজটি আমার সময় দেওয়া হয়নি। এটি করেছেন আগের নায়েব। যিনি বর্তমানে তালশহর পূর্ব ইউনিয়নে আছেন।

অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে লিজ নেওয়ার কাজে সহযোগীতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী নিতাই চন্দ্র বলেন, যেই জায়গাটি লিজ দেওয়া হয়েছে সেখানে কেউ থাকেনা বা দখলে নেই। দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ জায়গাটি দখলে আছে জানালে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন এবং এক পর্যায়ে সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচরন করতে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার এ্যসিল্যান্ড সাইফ-উল আরেফীন বলেন, যারা বর্তমানে জায়গাটি ভোগদখল করে আছেন তারা আগে আবেদন করেননি। এখন যেহেতু লিজ হয়ে গেছে তাই বাদ দেওয়া একটা জটিল প্রক্রিয়া। এরপরও লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যারা আগে থেকেই জায়গাটি ভোগদখল করে রাখে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লিজ পাওয়ার অধিকার রাখে কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “কিসের ভিত্তিতে তারা দখলে রেখেছেন সেটা আগে দেখতে হবে”।

 

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।