বিজয়নগরে জায়গা দখল করতে হামলা, ৩ নারী আহত, বাড়িঘর ভাংচুর, শিশু নিখোজ

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ : ১:১৫ অপরাহ্ণ ৬০৭

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে জায়গা দখল করার জন্যে প্রতিপক্ষের ভাড়িঘরে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার ঘটনায় তিন নারী রক্তাক্ত জখম হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া নিখোজ রয়েছে এক শিশু। শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এই ভাংচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে ও খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, গোয়ালনগর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন দুই বিয়ে করেছিলেন। তার দুই পরিবারের ছেলেদের মধ্যে একটি নাল জায়গা নিয়ে বিরুধ চলে আসছে। এক পক্ষে মফিজ উদ্দিনের এক ছেলে মুসা ও অপর পক্ষরা হলো মুসার সৎ ভাই মিজান ও ইয়ার খান। মুসা যেই বাড়িটিতে থাকছেন সেটি মিজান ও ইয়ার খানের বাড়ি দাবী করে তাদের উচ্ছেদের জন্য মুসার ঘরে হামলা করে ঘরটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। শুক্রবার সকালে একবার হামলা করার পর দুপুরে আবারও হামলা চালায় মুসার ঘরে। এসময় মুসার ঘরে থাকা মুসার মা খোদেজা বেগম,বোন মোর্শেদা ও আরেক বোন তাহমিনাকে রক্তাক্ত জখম করে হামলাকারীরা। তখন এলাকার ইউপি মেম্বার ও স্থানীয়রা আহতদের হাসপাতালে পাঠান। হামলার সময় মুসা মিয়ার ৭ বছরের শিশু সন্তান শাহীন আলম নিখোজ রয়েছে বলে জানান মুসা।

এদিকে শুক্রবার রাতেই মুসা মিয়ার একটি পেয়ারা বাগান কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। মুসা মিয়া বলছেন, এই কাজটিও করেছে মিজান ও ইয়ার খানের লোকেরা।

এ বিষয়ে মুসা মিয়া বলেছেন, যেই জায়গাটি নিয়ে তারা বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাংচুর করেছে সেই জায়গাটি আমার। আমার বাবা দুই পক্ষকেই দুইটি বাড়ি দিয়ে গেছে। তাহলে এই বাড়ি তারা দখল নিতে চায় কেন? আমাদের নামে দলিলপত্র আছে। মিজান ও ইয়ার খান গংরা আমাদের উপর যেই হামলা করেছে আমি তার বিচার চাই। বাইরে থেকে লোক এনে মিজান ও ইয়ার খান আমাদের উপর হামলা করেছে। তারা ছাড়াও হামলায় অংশ নিয়েছে মিজানের ছেলে সানাউল ও ভাই বৌ ডলি। এখানে পুলিশের ভূমিকা ছিলো রহস্যজনক। পুলিশ এসে উল্টো আমাদেরকে বলে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। আমাদের সাথে পুলিশ খারাপ আচরন করেছে। আমাদের ঘরে যখন হামলা করেছে তখন পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ এসেছে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, যেই জায়গাটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেটি মূলত আমাদের জায়গা। তবে হামলা আমরা করিনি। কে বা কারা করেছে তাও জানিনা। আমরা জায়গাটি নিয়ে মামলা করেছি। রিপোর্ট আমাদের পক্ষে এসেছে।

এবিষয়ে আউলিয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মনির কোন বক্তব্য দিতে রাজি হোননি।

বিজয়নগর থানার ওসি মির্জা মোহাম্মদ হাসান তেপান্তরকে বলেন, আমি হামলার খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি। যেহেতু এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালোনা তাই ঘুরে আসতে একটু সময় লেগেছে। আর এখানকার হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাটি যেহেতু তাদের পারিবারিক বিষয় তাই আমি এখানকার মেম্বার সাহেব ও অন্যান্য মুরুব্বিদের দায়ীত্ব দিয়েছিলাম বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা চেষ্টা করেও পারেননি। এখন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।