ক্ষোভ ও হতাশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ : ৬:৫৯ অপরাহ্ণ ১৫৫৫

তেপান্তর রিপোর্ট: এক বছর মেয়াদী আংশিক কমিটি হওয়ার প্রায় চার বছর পূর্ণ হতে চললেও এখনো ঘোষিত হয়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি। দীর্ঘদিন যাবত কমিটি পুর্নাঙ্গ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা। বর্তমান আংশিক কমিটি পুর্নাঙ্গ না হওয়ার জন্য জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের সাংগঠনিক ব্যার্থতাকে দায়ী করছেন অনেক বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।

গত ২৬শে সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হৃদয় শাহ জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি লিখেন,”বার্ধক্য জনিত সমস্যায় ভুগছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ…
এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি ৪ বছরে। এমন অবস্থায় উদীয়মান ছাত্রনেতারা ভোগছে চরম হতাশায়..।” তিনি আরও লিখেন,”জেলা ছাত্রলীগের #সভাপতি এবং #সাধারণ_সম্পাদক কিছুদিন পর পর কর্মীদেরকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কথা বলে ঢাকা শহরে অবস্থিত বাবুল টাওয়ারে প্রমোদ ভ্রমণে যায়। তারা আনন্দ ভ্রমন শেষ করে শূন্য হাতে ফিরে আসে,, তারা এসে কর্মীদের কাছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দর ব্যর্থতায় কমিটি হয়নি বলে প্রচার করে। ”

তার এই ক্ষোভঝরা স্ট্যাটাস ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।তার এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান আংশিক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমিন মিয়া মন্তব্য করেন,’বর্তমান কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ, গঠনতান্ত্রিক ভাবে অবৈধ হয়ে গেছে।তোমরা যারা নতুন নেতৃত্বে আসতে চাও গঠনতান্ত্রিক ভাবে দলীয় ফোরামে আলোচনা চালিয়ে যাও।আমরা তোমাদের সাথে আছি।’
একই ফেইসবুক পোস্টে সরাইল উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল ইসলাম রিপন লিখেন,’ এরই মধ্য কত নেতা যে বিয়ে করে ফেলেছে হিসেব নাই।আমার ছেলেকে সামনে পাটাবো ছাত্রলীগ করতে।’ আজিজুল ইসলাম রিপন পুর্নাঙ্গ কমিটিতে একজন পদপ্রত্যাশী।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ পাচ বছর পর স্থানীয় সংসদ সদস্য,জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে রহস্যজনক কারণে ঐদিন কমিটি ঘোষণা না করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইন। এর দশদিন পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হোসেন রুবেলকে সভাপতি এবং সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শোভনকে সাধারণ সম্পাদক করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর থেকেই ঝুলে আছে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। অথচ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে ধারা নং ১০ এর উপধারা (খ) তে লেখা রয়েছে,
“জেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। জেলা শাখাকে উপরোউক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে হবে।বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে জেলা কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রলীগের একাধিক পদপ্রত্যাশী নেতা অভিযোগ করেন, ” বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে এ পর্যন্ত চারবার পুর্নাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছেন। জমাকৃত কমিটিতে বিবাহিত, চাদাবাজি ও মাদক মামলার আসামি এবং অছাত্রসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বিতর্কিত নাম থাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এই কমিটির অনুমোদন দিচ্ছেনা।

বিতর্কিত প্রায় সবাই জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছের মানুষ হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিতর্কিতদেরকে রেখেই কমিটি পুর্নাঙ্গ করতে ঢাকাতে জোর তদবির চালাচ্ছেন।”

এছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী মোরসালিন চৌধুরী নিহাদ তেপান্তরকে বলেন,’ দীর্ঘদিন যাবৎ কমিটি পুর্নাঙ্গ না হওয়ায় অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে জেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম। ইতিমধ্যেই পদপ্রত্যাশী অনেকেরই নির্দিষ্ট বয়সসীমা পার হয়ে গেছে।ধৈর্য্য হারিয়ে অনেকেই চাকরিতে যোগদান করেছেন, প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন কিংবা ব্যাবসা বাণিজ্য শুরু করেছেন।’
তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়ার অনুরোধ জানান।

এতদিন পরেও কেন বর্তমান কমিটি পুর্নাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি এবং মাত্র সাত সদস্য নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম চালাতে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন তেপান্তরকে বলেছেন, করোনা মহামারির কারনে মূলত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে দেরি হচ্ছে। আশা করি অচিরেই তা হয়ে যাবে।
নতুন কমিটি প্রস্তাবনায় মাদক মামলার আসামী ও বিভিন্ন ভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে শোভন বলেন, যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ মাদক মামলার আসামী,অছাত্র বা বিবাহিত নেই। এমন কেউ থাকলে আমরাই তার নাম দিতামনা।
ঢাকায় বাবুল টাওয়ারে গিয়ে প্রমোদ ভ্রমনের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রমোদ ভ্রমন কি তা আমি জানিনা”। এখন ঢাকায় গেলে কোথাও না কোথাও আমাকে থাকতে হবে। প্রায় সময় বাবুল টাওয়ারে থাকি। এটাতো দোষের কিছুনা।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।