বিজয়নগরে প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তানকে অপহরনের অভিযোগ

১৪ অক্টোবর, ২০২১ : ৩:৫৫ অপরাহ্ণ ৫০৭

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানকে অপহরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৮ অক্টোবর বেলা পৌনে ১২টায় উপজেলার আলাদাউদপুর গ্রামের ফুলতুলি টু জালালপুর সড়কে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গত ১২ অক্টোবর অপহৃত নারীর মা বাদি হয়ে বিজয়নগর থানায় ৭ জনকে আসামী করে এজাহার দায়ের করেছেন। অপহৃত ব্যক্তিরা হলেন বিজয়নগর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী রোমা আক্তার (২০) ও তাদের সন্তান সিফাত (৪)।
আসামীরা হলেন, চান্দুরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৩২), শাহজাহান মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া (৩৬), মৃত আহাদ আলীর ছেলে শাহজাহান মিয়া (৫৫), জালালপুর গ্রামের মৃত হাজী মহেব আলীর ছেলে চমক মিয়া (৪৫), চান্দুরার শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী নূরজাহান বেগম (৪০), জালালপুর গ্রামের হাজী মহেব আলীর মেয়ে সামসুন্নাহার (৩০), ও চান্দুরার মৃত আহাদ আলীর ছেলে শহিদ মিয়া (৫০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রোমার স্বামী প্রবাসে থাকায় রোমা তার বাবার বাড়ি চান্দুরা ইউনিয়নের জালালপুরে থাকতেন।
ঘটনার সময় রোমা ও তার মা হেলেনা বেগম সন্তান সিফাতকে সাথে নিয়ে আমতলী গ্রামে ডাক্তারের কাছে যান। সেখান থেকে সড়ক দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আলাদাউদপুর গ্রামে পৌছলে একটি মাইক্রোবাস দিয়ে অপহরণকারীরা এসে রোমার মুখে গামছা বেধে জোর করে মাইক্রোতে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়।

এঘটনার পর এলাকায় অবস্থানকারী অভিযুক্তদের কয়েকজন তাদের ফিরিয়ে দিবে বলে নানা টালবাহানা করছে। এক পর্যায়ে রোমার চাচা অলিউর রহমানের মোবাইলে ০১৮৯৩৩৩৫৯৬৪ নম্বরসহ একাধিক নম্বর থেকে ফোন করে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে অপহরণকারীরা।

এই অবস্থায় রোমার মা ধারণা করছেন, রোমা ও তা সন্তানকে অপহরণকারীরা নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে বা রোমাকে কোন তালাবদ্ধ ঘরে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করছে। অথবা অপহরণকারীরা নারী ও শিশু পাচারচক্র, ফলে যেকোন সময় তারা অপহৃতদের ইন্ডিয়া পাচার করে দিতে পারে।

এবিষয়ে বাদী হেলেনা বেগম বলেছেন, বিজয়নগর থানার এস আই রশীদ জানিয়েছেন পুজার কারনে পুলিশের ব্যস্ততা আছে। তাই তারা অপহৃতদের উদ্ধার করতে সময় পাচ্ছেন না।

এবিষয়ে বিজয়নগর থানার এস আই রশিদ তেপান্তরকে জানিয়েছেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান আসামীর বাড়িতে গিয়ে দেখি সে নেই। বাকিরা বাড়িতেই আছে। আমরা ছেলে ও মেয়ের মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করেছি, দেখা গেছে তারা চট্রগ্রামের লালখান বাজারে আছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আছে কিনা সেটাও দেখা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারের পর অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহন করা হবে।

তবে বিজয়নগর থানার ওসি মির্জা মোহাম্মদ হাসান জানিয়েছেন, এবিষয়ে থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে কিনা তার জানা নেই। টোটাল বিষযটি তিনি অবগত নন।

 

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।