প্রবাসে থেকে ফোনে প্রেম-বিয়ে, অতঃপর টাকা হাতিয়ে নিজ বোনের জামাই’র সাথে পালালো স্ত্রী

২৪ অক্টোবর, ২০২১ : ৫:১২ অপরাহ্ণ ১০৫৩

ছবিতে হেনা ও রুবেল। 

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের রুবেল (২৪) থাকেন সৌদি আরবের ইয়ান্বু শহরে। সেখানে রুবেলের পরিচয় হয় আরেক প্রবাসী সরাইলের শাহিন মিয়ার সাথে। গড়ে উঠে বন্ধুত্ব। শাহিনের সুবাধে রুবেলের সাথে পরিচয় হয় তার বোন হেনা বেগমের, যার বয়স রুবেলের থেকে ৮ বছর বেশি। এই হেনাও থাকেন সৌদি আরবের দাম্মামে। তাদের মধ্যে গরে উঠে বন্ধুত্ব, প্রেম তারপর দুজন প্রবাসে থেকেই ফোনে বিয়ে হয় তাদের। গ্রুপ কলে মেয়ের পরিবারে সাথে তারা যুক্ত হয়ে একজন হুজুর হাজির রেখে বিয়ে হয় তাদের। তবে সেই বিয়ের কোন কাগজ হয়নি। উল্ল্যেখ, হেনা বেগমের আগেও একটি বিয়ে হয়েছিলো।

তার কিছুদিন পর হেনা দেশে চলে আসে। তার আগে সৌদিতে হেনার মালিক হেনাকে কোন কারনে আটকে রেখেছিলো। সেখানেও কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে হেনাকে মুক্ত করে রুবেল।তারপর হেনা দেশে আসতে পারে। এর মধ্যে হেনাকে সরাসরি কখনো দেখেননি রুবেল। এবার হেনা দেশে আসার পর স্ত্রী হিসেবে রুবেলের কাছে টাকা-পয়সা চাইতে থাকে। ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রুবেলে কাছ থেকে হেনা বিভিন্ন অজুহাতে অন্তত ১৬ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে। এই টাকায় হেনা নিজের নামে কিনেছেন একটি ট্রাক (পিকআপ)। যদিও স্বামীর নামেই কিনবে বলেছিলো। কিন্তু নিজের নামেই কিনেছেন। তারপর সেই ট্রাক চালায় হেনার ছোট বোন শিল্পীর স্বামী আনোয়ার হোসেন। রুবেল বিদেশ থাকা অবস্থায় সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ তার কথিত স্ত্রী হেনা বেগম তার ছোট বোন শিল্পীর স্বামী আনোয়ারকে সাথে নিয়ে পালিয়ে যান।

ক্ষেপে গিয়ে শিল্পী তার স্বামী আনোয়ার ও বড় বোন হেনার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। ২৮ অথবা ২৯ সেপ্টেম্বর  তাদের আটক করে পুলিশ। সপ্তাহ খানেক জেল খাটার পর ছাড়া পায় তারা। বর্তমানে হেনা ও আনোয়ার ঢাকায় একসাথে বসবাস করছে বলে জানা যায়।

এদিকে অক্টোবরে রুবেল দেশে এসে শশুর-শাশুরির কাছে একাধিকবার বিচার চাইতে গিয়ে হয়েছেন লাঞ্ছিত।

হেনা সরাইল উপজেলার বিশুতারা গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে।

আর রুবেল বিজয়নগরের খাদুরাইল গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে।

রুবেল তেপান্তরকে জানিয়েছেন, রুবেলের বয়স ২৪ আর হেনার বয়স ৩২। হেনা ভিডিও কলে রুবেলের সাথে কথা বলার সময় মুখে মেকআপ লাগিয়ে আসতো। তাই আসল রুপ দেখতে পারেনি। তিনি বলেন, আমাকে সহজ-সরল পেয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে সে তার ছোট বোন জামাইর হাত ধরে পালিয়ে গেছে। হেনা একটা প্রতারাক। আমি মনে করি তাদের পুড়ো পরিবারই প্রতারক। আমি দেশে আসার পর হেনার সাথে আমার দেখা হয়েছে। তখন সে আমার সাথে স্বাভাবিক স্ত্রীর মতো অভিনয় করে আমার মন ভুলানোর চেষ্টাও করেছিলো।

তবে এবিষয়ে হেনার বাবা-মা প্রতিবেদকের কাছে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হোননি।

তবে হেনার ছোট বোন শিল্পী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তেপান্তরকে জানিয়েছেন, রুবেল হেনাকে ১৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার বিষয়টি সত্য। সে প্রতারণা করে এসব টাকা রুবেলের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।

 

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।