ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করতে সাত দিনের আল্টিমেটাম, সাবেক ও পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ

৩ নভেম্বর, ২০২১ : ২:৩৩ অপরাহ্ণ ৬০৯

কাজী আশরাফুল ইসলাম: সদ্য ঘোষিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পুর্নাঙ্গ বিতর্কিত কমিটিকে বর্জন করে কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। এছাড়াও কমিটি পুনর্গঠনের জন্য জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক পদবঞ্চিত ও বিবাহিত নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লাভলু চৌধুরী এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল জুয়েলের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শহরজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের এই সাবেক নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল জুয়েল তেপান্তরকে বলেন,’ দীর্ঘ দুই বছর অপেক্ষা করার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ জেলা ছাত্রলীগের ৩৪৯ সদস্যের যে ঢাউস কমিটি ঘোষণা করেছে তা দেখে আর চুপ থাকতে পারলাম না।এই কমিটিতে দীর্ঘদিন রাজপথে ঘাম ঝরানো কর্মীদেরকে সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। অথচ কেন্দ্রে লবিং করে এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে মেন্টেইন করে অযোগ্য অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছে। একজন সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ‘

সদ্য ঘোষিত পুর্নাঙ্গ কমিটিকে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লাভলু চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে ১৫১ সদস্যের জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া থাকলেও এই কমিটির নেতার সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ।কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র,চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী, ছিনতাই ও চাদাবাজি মামলার আসামি, অস্ত্র মামলার আসামী,সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বিতর্কিত নাম রয়েছে। অথচ অনেক যোগ্য নেতারা সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয়নি।আমি এই কমিটির পুনর্গঠন চাই।’

উল্লেখ্য, গত ৩১শে অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পুর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর পরদিনই কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৪৯ করা হয়।ঘোষিত হবার পর থেকেই এই কমিটি জেলার টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে।

ইতিমধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কমিটির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এছাড়াও বর্তমান কমিটিতে পদ প্রাপ্ত অনেক নেতাও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি সৈয়দ হাসনাত সিফাত ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন,’এত নেতার ভীড়ে আমি হারিকেন দিয়ে কর্মী খুজি।’

এক কমিটিতেই ৯০ জন সহ-সভাপতি পদ পাওয়ায় বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম হৃদয় বলেন,’ সবাই যদি নেতা হয় কর্মী হবে কে?’ এছাড়াও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল মামুন বলেন,’ জুনিয়র ছেলেরা পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদ আর সিনিয়র কর্মীরা পেয়েছেন নামসর্বস্ব পদ।ত্যাগি কর্মীদের এইসব নামসর্বস্ব পদ দিয়ে লজ্জিত করার চেয়ে কমিটিতে না রাখাটাই সম্মানের ছিল।’

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।