স্ত্রী ছেড়ে যাওয়ার শোকে চিরকুট লিখে যুবকের আত্নহত্যা

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ : ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ ৭৫৯

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী ছেড়ে যাওয়ার শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে এক যুবক আত্নহত্যা করেছে। ওই যুবকের নাম মোফাসসিল (২৬), সে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরে মেড্ডার তিতাস পাড়ার তিতাস নদীর পাড় গাছের সাথে ফাস লাগিয়ে সে আত্নহত্যা করে। মোফাসসিল দীর্ঘদিন যাবৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় ভারা বাসায় বসবাস করতো। পেশায় তিনি একজন সিএনজি চালক। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন।

মোফাসসিলের মা চাঁন বানু জানান, বছর দুয়েক আগে মেড্ডার হেলিম মিয়ার মেয়ে মিলি’র (১৮) সাথে বিয়ে হয় মোফাসসিলের। পরে মিলির পরিবার থেকে মোফাসসিলের পরিবারকে ঘটনাক্রমে আধা কেজি চাউল ও অল্প পরিমানে অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। বিষয়টিকে অপমানের চোখে দেখে মোফাসসিল। এ নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিয়ের প্রায় দুই বছর পর তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। কিন্তু স্ত্রী মিলির প্রতি ভালোবাসা কমেনি মোফাসসিলের। এ নিয়ে সে প্রায়ই বিষন্ন থাকতো। শেষমেষ সে আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

মোফাসসিলের লিখে যাওয়া চিরকুটের কিছু লিখা ছিলো এরকম, “জানো মিলি, তুমি ছাড়া আমাকে বুঝার মতো আর কেউ ছিলোনা। তুমি আমার ভালোবাসা বুঝেও বুঝলেনা। কোন একদিন আমার ভালোবাসা বুঝবে, সেদিন খোজলেও পাবেনা। পৃথিবীতে কেউ কাউকে ঠকিয়ে কোনদিন জিততে পারেনি, তুমিও পারবেনা। কারো মনে কষ্ট দিয়ে কেউ কোনদিন সুখী হতে পারেনি, তুমিও পারবেনা। কোনদিন ভাবিনি ছেড়ে চলে যাবে আমায়।” চিঠির আরেক পৃষ্ঠায় মোফাসসিল লিখেন, “স্বার্থপর পৃথিবীতে টাকাই সব। সব হারিয়েছি টাকার জন্য, হাড়িয়েছি তুমাকেও। ও যেতে চায়নি, ওকে বাধ্য করেছে ওর মা-বাবা ও বড় বোন।”

ওই ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।