জেলা ছাত্রলীগ: বিতর্কিত কমিটির এক মাস,ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা

৭ ডিসেম্বর, ২০২১ : ২:২৮ অপরাহ্ণ ৫০৭

বিশেষ প্রতিবেদক: অসংখ্য সমালোচনার পরও বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ও অযোগ্যদের নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে এক মাস অতিবাহিত করল!

গত ৩০’শে অক্টোবর ঘোষিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয়েছে নানা অপরাধে যুক্ত অপরাধী ও অযোগ্যদের নিয়ে। মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, হত্যা মামলার আসামী,শিবির ও ছাত্রদল কর্মী, বিবাহিত, মাদকসেবী, অছাত্র, শ্রমিক এমনকি বিএনপি পরিবারের লোকও স্থান পেয়েছেন এই কমিটিতে। ফলে এটা নিয়ে জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে কমিটির বিতর্কিত প্রায় অর্ধ শতাধিক সদস্যের ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে,এমনকি এটা নিয়ে পুরো মাস জুড়ে শহরতো বটেই জেলার সর্বত্র বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী এবং ছাত্রলীগের শুভাকাঙ্ক্ষীরা ধারাবাহিক ভাবে সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছে। এত সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যেও কোন ধরনের বাধা বিপত্তি ছাড়া এই কমিটি একমাস অতিবাহিত করেছে। যদিও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এবং জেলা ছাত্রলীগ থেকে তেপান্তর সহ জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলা হয়েছিল কেন্দ্রের সভাপতি-সেক্রেটারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরলেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,কিন্তু তারা দেশে ফিরেছেন প্রায় চার সপ্তাহ হল তবে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। উল্লেখ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ বিব্রত হয়েছে ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে,এবং তারা এটা পছন্দ করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক একজন নেতা তেপান্তরকে বলেন,”ছাত্রলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন,এই উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী এবং সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন, এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যার রয়েছে প্রশংসনীয় ও ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ। মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিলিয়ে শহীদ হয়েছে এ সংগঠন এর অনেক নেতা কর্মী। কিন্তু সেই সংগঠনের গঠনতন্ত্র এবং প্রচলিত নিয়ম কানুনকে তোয়াক্কা না করে,গঠনতন্ত্রকে কলা পাতা বানিয়ে ঘোষিত কমিটিকে অছাত্র,বিবাহিত,ছিনতাইকারী, মাদকসেবি ও মাদক ব্যবসায়ী,শিবির ও ছাত্রদল কর্মী এবং বিভিন্ন মামলার আসামি ও অনুপ্রবেশকারীদের কমিটিতে পরিণত করা হয়েছে। অনেক ত্যাগী ছাত্রকর্মীকে পদ দেয়ার নামে উপহাস বা অপমান করা হয়েছে,এমনকি আমাদের সাবেকদের অনুসারী বলে অনেকে কমিটিতে পদই পায়নি। এব্যাপারে আমি আমাদের অভিভাবক মাননীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী’র কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ দিয়েছি। তবে একটা কথা বলতে চাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ এখন বেয়াদব ও অপরাধী তৈরী করার কারখানায় পরিণত হচ্ছে”।

এবিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদক শাহেদ খান বলেন,”প্রায় এগার বছর যাবত মনে প্রাণে ছাত্রলীগ করছি,আমি সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলাম,জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলাম,বর্তমান কমিটি গঠনে যে সম্মেলন হয়েছিল সেখানে আমি সেক্রেটারি প্রার্থী ছিলাম আর আমাকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সম্পাদক রেখে অপমানিত করা হল। যারা গত ছয় মাস কেবল ফেসবুকে ভাইদের প্রশংসা করে স্ট্যাটাস দিছে কিন্তু রাজপথে কখনো যাদের দেখি নাই,হেফাজতের তান্ডবে যারা ছিল নিরব দর্শক তাদেরকে বিভিন্ন পূর্ণাঙ্গ সম্পাদক এবং উপসম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে,সে কমিটি এখন বিতর্ক নিয়ে একমাস পূর্ণও করে ফেলেছে। এমন কলংকিত কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের ইতিহাসে আর হয়েছে বলে অন্তত আমার জানা নেই”।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ছাত্রলীগের একজন সহ-সভাপতি তেপান্তরকে বলেন,”দেখুন আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অন্তত ৬০ ভাগ সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি এবং মুজিব আদর্শ কি হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করলে বলতে পারবে না,তারা প্রত্যেকে মনে মনে সাম্প্রদায়িকতা পুষণ করে। খুবই কষ্ট হয় যখনই মনে পড়ে জেলা ছাত্রলীগে তারা আমার সহকর্মী “।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার হাবিবুর রহমান এর নাতি,ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির অন্যতম পদপ্রত্যাশী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সওদাগর এখলাছুর রহমান (পায়েল) তেপান্তরকে বলেন,”ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনকে বর্তমানে কিছু ছাত্রলীগ নামধারী রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের নৈতিকতাকে অর্থের কাছে বিক্রি করে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে, স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, অনিয়মিত ছাত্র, বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামী, বিবাহিত, চোর ছিনতাইকারী, শ্রমিক, চাকুরীজীবী হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে গত ৩১ অক্টোবর ২০২১ সালে ৩৪৯ সদস্য নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়। যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের বিরোধী। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বলা আছে জেলা ভিত্তিক সদস্য সংখ্যা হবে ১৫১, কেন্দ্রের সদস্য সংখ্যা হবে ৩০১। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ৩৪৯ যা পুরোপুরি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে বলা আছে এ সংগঠন করতে হলে নিয়মিত ছাত্র, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসে, নির্ধারিত বয়স হতে হবে কিন্তু আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যে বিতর্কিত লোকদের রাখা হয়েছে যা পুরোপুরি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রবিরোধী। ২০১৪ সালের নির্বাচনী সহিংসতায় বিএনপি’র পক্ষে রাজপথে অংশগ্রহণ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে রাজনীতি অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, ২০১৬ ও ২০২১ সালে হেফাজতের তাণ্ডবের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মৌন সম্মতি দেয়া ব্যক্তি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারী, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পদধারী নেতা, বিভিন্ন মামলার আসামী, ২০১১ সালে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি মহোদয়ের গাড়িতে হামলার সময় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা হয়ে যায় তখন আদর্শের রাজনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের তৃণমূলের কর্মীরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে অপেক্ষায় ছিলাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দেশে আসার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটি নিয়ে কিছু একটা করবেন? কিন্তু আমরা আজ হতাশ একমাস অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে আজ অবদি কোন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তখন আমাদের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন জাগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারী নিয়ে বিতর্কিত কমিটি যে বা যারা করেছে তাদের কি এমন ক্ষমতা এইরকম বিতর্কিত কমিটি করার পরও আজ অবদি কোন প্রতিক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি না? যারা সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী বর্তমানে তাদের অবস্থা এতটাই বেহাল অবস্থা যা বলে বুঝাতে পারব না, অন্যদিকে হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীরা বিভিন্ন প্রকার অপরাধ ও ধান্দাবাজি করে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার সম্মান ক্ষুণ্ন করছে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঐতিহ্য ও সুনাম নষ্ট করছে। এই হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীরা হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের খন্দকার মোশতাক। তাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আকুল আবেদন কমিটিতে আসা এইসব বিতর্কিত লোকদেরকে দল থেকে বের করার দাবি জানাচ্ছি। যারা এই লোকগুলোকে এ কমিটিতে পদ দিয়ে সহযোগিতা করেছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অতীত, ইতিহাস ও সুনাম রক্ষা করতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী দলের ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কমিটি করতে হবে। দলের ত্যাগী নেতাদের নিয়ে গঠিত কমিটি দলের সুনাম যেমন রক্ষা করবে ঠিক তেমনি দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের উন্নয়নের অব্যাহত ধারা চলমান রাখতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে ও বাস্তবায়ন করবে। সত্যিকারের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সৈনিকেরা কখনো বিশ্বাসঘাতক ও বেঈমান হতে পারে না”।

বিতর্কিত এই কমিটির ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে কিনা বা কেন্দ্র থেকে উনাদের কোন দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন তেপান্তরকে বলেন,”আমাদের সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট এবং সেক্রেটারির কথা হয়েছে,দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রের সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে,তাদের সাথে আমরাও কথা বলেছি, তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। তারাও ব্যাপারটা মোটামুটি ক্লোজ করে নিয়ে আসছে – ক্লোজ বলতে অনেকের নামে অবান্তর ব্লেইম এবং নিউজ আছে,তারা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছে। সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্তরা খোঁজ খবর নিচ্ছেন, আশা করি দু-চার পাচ দিনের মধ্যে একটা রেজাল্ট আসতে পারে। আমরা গতকালও তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা তাদের সোর্সের মাধ্যমে ইনফরমেশন নিচ্ছে,আশা করি দু-চার দিনের মধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

বিতর্কিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার এক মাস অতিবাহিত হয়েছে যেখানে অনেক নিবেদিত প্রাণ ও ত্যাগী কর্মী,হয় কমিটিতে জায়গা পায়নি অথবা কেবল সহ-সম্পাদক পদ পেয়েছে এবং উনাদের সাংগঠনিক দায়িত্বের নির্ধারিত এক মাস পূর্ণ হওয়ার পরও এব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা কিংবা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি আলিমুল হক(ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত) তেপান্তরকে বলেন,”বিষয়টা হচ্ছে আমাদের যেদিন দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে সেদিনই এই কমিটি হয়েছে। আমাদের হাতে ঐ রকম প্রুফ ছিল না,সুযোগ ছিল না সবার খোঁজ খবর নেয়ার। এখন আমরা চেষ্টা করছি এবং কাজ চলছে। জয় ভাই এবং লেখক দা দেশে ফেরার পরে উনাদের সাথে কথা বলে আমরা কাজ শুরু করছি,জেলার সভাপতি সেক্রেটারিকে ডেকে কথা বলেছি। আমরা মোটামুটি একটা লিস্ট করছি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আছে। আমরা চেষ্টা করছি,আশা করি খুব দ্রুতই একটা আউটপুট দিতে পারব।”
স্থানীয় এবং জাতীয় গণমাধ্যমে বিতর্কিত কমিটি নিয়ে যারা নিউজ করেছে তাদের কাছ থেকে আপনারা তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন কিনা কিংবা যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,”কোন গণমাধ্যম থেকে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়নি,আমরা ব্যক্তিগত ভাবে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের সবাইকে ডাকব তাদের অভিযোগ খন্ডনের জন্য। সময় নিয়ে করার মূল কারণ হচ্ছে নির্দোষ নিরপরাধ একটা ছেলে যেন বাদ না যায়,একটু অপেক্ষা করুন যারা বিতর্কিত আছে তাদের বাদ দিব এবং যারা ডেডিকেটেড আছে তাদের ইনক্লুড করব”।

৩০ অক্টোবর সংগঠনের গঠনতন্ত্র যথাযথ ভাবে অনুসরণ না করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর গত ৩০ নভেম্বর বিতর্কিত কমিটির এক মাস পূর্ণ হওয়া এবং কেন্দ্রের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দেশে ফেরার প্রায় চার সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও উক্ত বিতর্কিত এবং সমালোচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির ব্যাপারে কোন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ কিংবা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা অথবা গ্রহণ করা না হলে এখনো কেন করা হয়নি,এমনকি ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যেকোন পদ পাওয়ার জন্য এবং পছন্দমতো বা সুনির্দিষ্ট পদ পাওয়ার জন্যও ব্যাপক আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে এমন অভিযোগ থাকার পরও কেন তড়িৎ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি,এসকল বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি-সম্পাদকের সাথে তেপান্তরের পক্ষ থেকে ফোনে এবং হোয়াটসঅ্যাপে টানা চার দিন নিরলস ভাবে যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।