আচরণবিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মেম্বার হলেন তিনি!

২৯ ডিসেম্বর, ২০২১ : ১২:১১ অপরাহ্ণ ২৩৪

 আশরাফুল মামুনঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সদ্য সমাপ্ত হওয়া চতুর্থধাপে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী আচরণবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচীত হয়েছেন একেএম নিয়াজী নামের এক ব্যক্তি। এমনকি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও সেই অবৈধ তোরন টি সরানো হয়নি। তবে উপজেলা ম্যাজিস্ট্যাট জানালেন আচরনবিধি লঙ্ঘনের পর তাদের জরিমানা করা হয়েছিল। অত্র উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে এমন ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রঙিন ব্যানারে করা তোরণ সড়কে সাঁটিয়ে রেখেই
আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালিয়ে ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচীত হওয়ার বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন নির্বাচন-সংশ্নিষ্ট ও স্থানীয় এলাকাবাসী ভোটাররা। এ নিয়ে আলোচনা – সমালোচনাও হচ্ছে।
যদিও আখাউড়ায় ৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ একাধিক মেম্বার প্রার্থীর নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১৩২ মামলায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশনাকে অমান্য করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়কে তার রঙিন তোরণ না খোলেই নির্বাচন শেষে মেম্বারও হলেন একেএম নিয়াজী।
জমমনে প্রশ্ন, একজন মেম্বার প্রার্থী নির্বাচনী বিধিকে অমান্য করে প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কিভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে মেম্বার নির্বাচীত হলেন?
সাংবাদিকগন মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে খোঁজ নিয়ে দেখছলেন তোরনটি এখনো সরানো হয়নাই। চতুর্থধাপে আখাউড়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের প্রচারমূলক ব্যানার-পোস্টার ও নির্মাণ করা তোরণ প্রার্থীদের নিজ উদ্যোগে অপসারণ করার নির্দেশনা দেয় প্রশাসন। ওই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আখাউড়া – কসবা সড়কে এখনও ঝুলছে রঙিন ব্যানারে সাঁটানো স্থানীয় ওয়ার্ডের নির্বাচীত মেম্বার
একেএম নিয়াজীর নির্মাণ করা তোরণ।
ভুক্তভোগী প্রার্থীদের অভিযোগ, আখাউড়ায় ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস ঠুনকো অপরাধে প্রার্থীদেরকে জরিমানার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। দেয়ালে পোস্টার লাগানো, নির্বাচনী অফিস আলোকসজ্জা কিংবা বিভিন্ন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে নগদ জরিমানা ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অনাদায়ে নিশ্চিত কারাবরণ।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা তোরণ ভাঙতে বলায় বিভিন্নজনের সঙ্গে বিরূপ মন্তব্যও করেন একেএম নিয়াজী। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন নির্বাচন-সংশ্নিষ্ট ও স্থানীয় এলাকাবাসী ভোটাররা।
অন্য প্রার্থীদের জরিমানা আদায় করা হলেও বহালতবিয়তে সড়কে রয়েই গেল একেএম নিয়াজীর সড়কের সেই রঙিন ব্যানারে সাঁটানো তোরণ।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা’র কাগজ প্রার্থীদের হাতে হাতে দেওয়া থাকলেও প্রার্থী একেএম নিয়াজী তা মানেননি। চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনেক আগেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আখাউড়া – কসবা সড়কের উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়ন এলাকায় রঙিন পোস্টারে তোরণ নির্মাণ করে ওয়ার্ড মেম্বার প্রার্থী একেএম নিয়াজী। নির্বাচনের পূর্ব মূহুর্তে প্রশাসন অপসারণ করার নির্দেশনা দেয়া হলেও আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেন নিয়াজী।

এ প্রসঙ্গে আখাউড়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর বিট পুলিশের দায়িত্বে থাকা অফিসারকে তোরণটি সরিয়ে দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।
একেএম নিয়াজী বলেন, সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সড়কে তোরণটি রাখা হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার সুফিয়া সুলতানা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলেও নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখার দায়িত্বে নিয়োজিত
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছিল।

নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্যাট মোঃ সাইফুল ইসলামের কাছে বিষয় টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, অত্র এলাকায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তি পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তি পূর্ণ হয়েছে, তিনি আরো বলেন, আচরণ বিধি লঙ্গনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে, এরপরেও যদি তোরন না সরানো হয়ে থাকে এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।