ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুর ভরাট করে বিল্ডিং নির্মান, সব দেখেও নিরব থাকে সংশ্লিষ্টরা

১ জানুয়ারি, ২০২২ : ১:৪৫ অপরাহ্ণ ৫৫২

সীমান্ত খোকন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ক্রমাগতভাবে পুকুর ভরাট চললেও এর বিরুদ্ধে যারা ব্যবস্থা নিবেন তারা সব দেখেও যেন না দেখার ভান করেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায়, পুকুর ভরাট হওয়ার সময় গণমাধ্যমে নিউজ হলে বিষয়টি নিয়ে সামান্য ঝামেলা করে পৌরসভা ও পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু কিছুদিন পরই পুকুর ভরাটকারী ও ভরাটে বাধাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অদৃশ্য কারনে সেই ঝামেলা মিটে যায়। ফলে ভরাট হওয়া পুকুরে নির্বিঘ্ন বহুতল ভবন নির্মান হতে পারে।

গত কয়েক বছরে এই কৌশলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বেশিরভাগ পুকুর ভরাট হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত ভরাট হয়ে যাওয়া কোন পুকুর পৌরসভা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দাঁড়া উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নেই। একবার যে পুকুর ভরাট হয়ে যায় তাকে আর কখনোই উদ্ধার করা যায় না।
কিন্তু তা স্বত্তেও পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিরব থাকে কেন,এটি একটি বড় প্রশ্ন।

সর্বশেষ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব পাইকপাড়ার রাম ঠাকুর মন্দিরের পাশের পুকুরটির একটি অংশ দখল করে বিল্ডিং নির্মান করছেন দুলাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি। যদিও দুলাল মিয়ার নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের পাশেই আরো আগে একই পুকুরের জায়গা ভরাট করে বিল্ডিং নির্মাণ করেছে অন্যরা। তখনকার সময়ে কাউকে এর জন্য আইনের আওতায় আনা হয়নি। তারা নির্বিঘ্নে কাজটি করতে পেরেছেন।
কিন্তু বর্তমানে পুকুরটির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জনৈক দুলাল মিয়া বিল্ডিং নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজ শুরুর দিকেই তাকে জরিমানা করে প্রশাসন। এসময় তিন মাসের মধ্যে পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য দুলালকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশকে দুলাল মিয়া বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উল্টো নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ইতোমধ্যে ভবনটির ছাদ ঢালাই সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু তা সত্বেও পৌরসভা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের টনক নড়ছে না।

এই পুকুরটি ভরাটের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ এ্যকশান হলো, পুকুর পাড় দুলাল মিয়ার নির্মাণাধীন বিল্ডিংটির পাশে একটি চিপা রাস্থায় পুকুর ভরাটের জনসচেতনতা মূলক একটি বিজ্ঞাপন সাইনবোর্ড লাগিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। যদিও এই সাইনবোর্ডটি সচরাচর মানুষের চোখে পরে না চিপা জায়গায় লাগানোর ফলে।

আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা বিষয়টি গায়েই মাখেনি।

পত্রিকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, “পুকুরটি ভরাট করে বিল্ডিং নির্মান করতে দেওয়া হবেনা”।
তার এই কথা শুধু কথার কথা হিসেবেই সীমাবদ্ধ। এখন পর্যন্ত পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, যেহেতু দুলাল মিয়া আইন অমান্য করে পুকুর ভরাট করে বিল্ডিং নির্মাণ করেছে তাই তার বিরুদ্ধের নিয়মিত মামলা করবে পরিবেশ অধিদপ্তর।
কিন্তু এটিও যেন পৌরসভার প্রকৌশলীর কথার মতো “কথার কথা” হয়ে রইলো।

যদিও পুকুর ভরাটকারী দুলাল মিয়া এই প্রতিবেদককে ফোনে জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে মিমাংসা করেই তিনি আবার পুকুরের ভিতর বিল্ডিং নির্মানের কাজ ধরেছেন”।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।