Tepantor

চাকরি ছাড়তে চান কাউছার, আরেকজন নিয়োগ দিয়ে ঘুষের টাকা ফেরত দিবেন শিক্ষক

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ : ৯:৫২ অপরাহ্ণ ২১৫

নিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জি: শিক্ষক হওয়ার আশায় প্রধান শিক্ষককে দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। তবে চাকরি মেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর। প্রতারিত হয়ে মানসিক বিপর্যস্থ হওয়ার পাশাপাশি শারিরিক অসুস্থতায় এখন আর তিনি সেই চাকরি করতে চান না। ফেরত চাচ্ছেন ঘুষের টাকা।

Tepantor

প্রধান শিক্ষক নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, আরেকজনকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে তিনি ওই টাকা দিয়ে দিবেন। তবে চাকুরি হওয়া যুবক চাইলে নামেমাত্র হাজিরা দিয়ে চাকরিটি করতে পারেন। অথবা অন্য কাউকে দিয়েও চাকরিটি করাতে পারেন।

ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে উপজেলার মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম ও চাকরি হওয়া যুবক মো. কাউছারের মা রাজিয়া বেগমের প্রায় ২০ মিনিট ফোনালাপ এ তথ্য বের হয়ে এসেছে। প্রধান শিক্ষক ওই নারীর সম্পর্কে মামা হন বলে আলাপচারিতায় বুঝা যায়।

জানা গেছে, চাকরি পাওয়া কাউছার হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিমের এলাকার একটি মসজিদে তিনি ইমামতি করতেন। প্রায় ছয়মাস আগে কাউছারের চাকরি হয়।

ফোনালাপে কাউছারের মা দাবি করেন, ছেলেকে শিক্ষকতার চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়। তিন দফায় এ টাকা দেওয়া হয়। চাকরি হওয়ার পর কাউছার বুঝতে পারেন তাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ধরণের কাজ তার ছেলের পক্ষে করা সম্ভব না। এছাড়া শারিরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক তাকে এ ধরণের কাজ না করার জন্য বলেছেন। যে কারণে তার ছেলে চাকরি করতে চান না।

রাজিয়া বেগম বলেন, ‘মামা হে (কাউছার) ত চাকরিডা করত না। হের শইলডা বালা না। কদিন আগে এমআরআই করাইছে। ১৫-২০ হাজার টেহা গেছে। হে এতিম মানুষ। আফনে ত কইছলাইন মাস্টারি দিবেন। যে যেভাবে কইছুইন হেবাবে দুই লাখ টেহা দিছি। কিন্তু চাকরি ত কতা মত দিছেন না। অহন মামা টেহাডা দেলান। আমি চিন্তা করছি এই টেহা দিয়া হেরে একটা গর কইরা দিমু। রিজিক জা তাহে তা কনরাঅই হে খাইবো।’

প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, ‘হে যদি চাকরি না করে রিজাইন দেলাইতার ব। এ পদে আরেকজন আইব। আরেকজন আইলে হেরে উদ্ধার কইরা দেঅনের সুযোগ আছে। হে ক্ষতিগ্রস্থ হইছে থাকত না। নতুন কইরা নিয়োগ দিলে আবার ইতা সমস্যা অইত না। তবে ধৈর্য্য দরত অইব।’

তিনি বলেন, ‘আমি কই আওয়া যাওয়া করলেই বাইচ্চা থাহে। যদি না পারে অইন্ন কেউরে দিয়া চাকরিডা করাক। আর জিদ চাকরি না অই করে আমি রিকভারি কইরা দিমু। কেউরে দরন লাগদ না। ইহান কিতা অইছে না অইছে কইয়া লাব নাই। আমি ব্যবহার অইছি।’

কথা হলে মুকুন্দপুর এলাকার বাসিন্দা ও মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রার্থী মো. আলমগীর কবির বলেন, এমন একটি অডিও রেকর্ড আমি শুনেছি। সবার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে কি করা যায় চিন্তা করবো।

তবে মোবাইল ফোনে কথা হলে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। রেকর্ডের কথা আমার না। চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরণের কোনো লেনদেন হয়নি বলেও তিনি জানান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল জলিল বলেন, চাকরি বিষয়ে কোনো ফোনালাপের কথা আমাকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি আমি জানিও না।

এনআইআ/এসকে

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।