তারা নিজেদের মতো দল চালান,পকেট কমিটি করে

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ : ১১:১৬ অপরাহ্ণ ২৬৭৩

হেলাল উদ্দিন। যিনি তরুন বয়স থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি অতীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ করে এখন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করছেন। হেলাল উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার আগের মেয়াদগুলোতে একবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ও একবার মেয়র হিসেবেও নির্বাচিত হয়ে দায়ীত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। কিন্তু দলীয় কোন্দল ও দ্বন্দে তিনিসহ বেশ কয়েকজন নেতা এখন প্রায় কোনঠাসা। এসব সমস্যা ও সমাধানের পথ নিয়ে তিনি খুলাখুলি ভাবে কথা বলেছেন তেপান্তর এর সাথে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সীমান্ত খোকন ও ছবি তুলেছেন জহির রায়হান

 

 

তেপান্তর: আপনি কেমন আছেন?

হেলাল উদ্দিন: আমি ইনশাআল্লাহ ভালো আছি।

 

তেপান্তর: বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের অবস্থা কি?

হেলাল উদ্দিন: দীর্ঘদিন যাবৎ আমি আওয়ামীলীগ করছি।  অতীতে আমি ছাত্রলীগ করেছি, আমি যুবলীগ করেছি, আওয়ামীলীগ করেছি। আওয়ামীলীগ থেকে আমি একবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ও একবার মেয়র হয়েছি।  গত সংসদ নির্বাচনে আমি প্রার্থী ছিলাম।  দল এখন আর আগের জায়গায় নেই।  ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী ও আল মামুন সরকার যখন প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি হয় তার পর থেকে তারা দুজনই দল চালান।  তাদের মতো করেই তারা দল চালান, নিজেদের মতো করেই তারা বিভিন্ন জায়গায় পকেট কমিটি করে।  তারা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও সেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি করে।  অন্য কেউ প্রার্থী হতে পারেনা, প্রার্থী হতে চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কলা-কৌশল করে।  অন্যকে প্রার্থী হতে দেয়না।  এই অবস্থায় দল আছে এখন।

 

তেপান্তর: জেলা আওয়ামীলীগ কি বিভক্ত?

হেলাল উদ্দিন: জেলা আওয়ামীলীগের একটা বড় অংশই এখন কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেনা। যেমন আমি মোঃ হেলাল উদ্দিন, আমার সাথে আছেন প্রাক্তন সচিব মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল আলম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা আমানুল হক সেন্টু, আমাদের মিনারা আলম, মানে মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী মিনারা আলম, আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষকলীগের সভাপতি কাউছার, এরকম অসংখ্য নেতাকর্মীরা যারা অবহেলিত তারা সবাই আমার সাথে আছেন।  আমরা একসাথে রাজনীতি করি।

আমরা বিভিন্ন সময় যারা জেলা আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়েছি, যারা এমপি প্রার্থী হয়েছি তাদেরকে তারা  সহ্য করতে পারেনা। এবং তারা মনে করে  আমরা প্রতিদ্বন্ধী। আমরা প্রতিদ্বন্ধী থাকলে তাদের জন্য প্রবলেম। তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে পলিট্রিক্স করে,পকেট কমিটি নিয়েই তারা রাজনীতি করে। আমাদেরকে কোথাও সুযোগ দিচ্ছেনা। ক্ষমতার অপব্যাবহার করার জন্যই আমদেরকে সুযোগ দিচ্ছেনা।

 

তেপান্তর: আপনাকে এখন রাজনীতির মাঠে দেখা যায়না, কারন?

হেলাল উদ্দিন: আওয়ামী রাজনীতিতে সামাজিক কর্মকান্ড ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রোগ্রামগুলো আমরা ছোট খাটো করে করি বিভিন্ন সংঘঠনের নামে। যেমন, লুৎফল হাই সাচ্চু স্মৃতি পরিষদের নামে করি, আমরা মুক্তিযুদ্ধার সংঘঠন থেকে করি, কৃষকলীগ থেকে, মহিলা আওয়ামীলীগ থেকে আমরা করি। কিন্তু আওয়ামীলীগ থেকে করার কোন সুযোগ নেই। যেকারনে আমাদেরকে মাঠে দেখা যায়না। তারা আমাদেরকে সেইভাবে রাখে যেন আমরা কোন মিটিং-টিটিংয়ে যেতে না পারি।

হেলাল উদ্দিনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তেপান্তর সম্পাদক সীমান্ত খোকন।

তেপান্তর:  মৎস মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যু পর আপনারা কি কোন বেকায়দায় পরেছেন?

হেলাল উদ্দিন: মৎস মন্ত্রী আমাদেরকে সাপোর্ট করতেন। তার মৃত্যুর পর স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা বেকায়দার করন তো আছেই। তাছাড়া গত আওয়ামীলীগের সম্মেলনের পরেই তারা (ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী ও আল মামুন সরকার) একে অপরকে সাহায্য করে। দল ভালো চলুক সেরকম কোন কাজ করেনা। যেমন,দল ভলো চললে, দল যদি সংঘঠিত থাকতো, দল যদি শক্তিশালী থাকতো তাহলে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে ফেল করতোনা। দল যদি ভালো চলতো তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাচনে ভালো হতোনা (খারাপ হতোনা)। এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনাচে-কানাচে বর্তমানে মেয়র সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচানা হয়। ভোটহীন ভাবে, ভোট ছাড়া নির্বাচিত হয়েছে। তার মানুষের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। মানুষ তাকে অপছন্দ করে। আমি পৌরসভার মেয়র থাকা অবস্থায় আমার মনোনয়ন তারা ছিনতাই করেছে। সু-কৌশল ভাবে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত পৌরসভা নির্বাচনে তাদের স্বার্থের জন্য চক্রান্ত করে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি প্রার্থী ছিলাম।

গত উপজেলা নির্বাচনে বিজয়নগরেও তাদের ভরাডুবি হয়েছে সদরেও ভরাডুবি হয়েছে।

 

তেপান্তর: কি কারনে এই ভরাডুবি?

হেলাল: তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে রাজনীতি হয়না, ফলে নেতাকর্মীরা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বতস্ফুর্ততা নেই, একারনে।

 

তেপান্তর: আপনার সাথের নেতাদের অবস্থা কি?

হেলাল উদ্দিন: তারা আছে। তারা আগামী সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সম্মেলনের আগে জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা। এই সম্মেলনে সকলেই অংশগ্রহণ করবে এবং সক্রিয়ভাবে পলিট্রিক্সে নামবে যদি কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের সেই সুযোগ করে দেয়। এবং আশা করি তখন একটা পরিবর্তন হবে।

 

তেপান্তর: এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ কি ?

হেলাল উদ্দিন: এটা একটা কাউন্সিলের মাধ্যমে যদি পরিবর্তন আসে এবং সুষ্ঠু একটা কাউন্সিল হতে হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। এবং কাউন্সিলে যোগ্য নেত্রীত্ব বেড়িয়ে আসবে। যদি আগের মতো পকেট কমিটি হয় তাহলে যোগ্য নেত্রীত্ব বেড়িয়ে আসবেনা। যোগ্য নেত্রীত্ব আসলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে এবং জনগনের কাছে এটা গ্রহনযোগ্যতা পাবে।

 

তেপান্তর: রাজনীতি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

হেলাল উদ্দিন: ভবিষ্যত পরিকল্পনা হলো কাউন্সিলে আমি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রার্থী হবো। আর এমপি নির্বাচন এবারও চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে সময় আসলে দেখা যাবে।

 

তেপান্তর: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

হেলাল উদ্দিন: থ্যাংক ইউ।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

  • 2.8K
    Shares