জুয়েল ফকির, সৌদি আরব: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’এ বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত বই উৎসব ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়।
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রিয়াদের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোসতাক আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের শ্রম কল্যাণ কাউন্সিলর মো: মেহেদী হাসান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের শ্রম কল্যাণ কাউন্সিলর মো: মেহেদী হাসান বলেন, নতুন বই পাওয়া একটি অন্যরকম আনন্দের বিষয়। বিশ্বের অন্যকোন দেশে হয় কিনা আমি জানিনা তবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বছরের প্রথম দিনে চার ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বই দেয়া সম্ভব করেছেন। দেশের মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে পড়াশুনা শেষ করে তারা বিদেশে চলে যাচ্ছে। সরকার বিনামুল্যে বই দিচ্ছে। বিভিন্ন খরচ দিচ্ছে। সরকারের এই ঋন শোধ করতে হবে। শিক্ষা জীবন শেষ করে নিজের অর্জিত জ্ঞান দেশের সেবায় কাজে লাগাতে হবে। রিয়াদ বাংলা স্কুলের গৌরবোজ্জল অতীত রয়েছে এটা ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব হবে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ্য পুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিকতা শিক্ষা দেয়া। তাহলেই ছেলে মেয়েরা প্রকৃত মানুষ হিসাবে গড়ে উঠবে। ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়াও অত্যন্ত জরুরী।
সিনিয়র শিক্ষক খাদেমুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের ভাইস চেয়ারম্যান, এডমিন ডিরেক্টর রফিকুল ইসলাম, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর আব্দুল হাকিম, কো-ফাইন্যান্স ডিরেক্টর প্রকৌশলী গোফরান আহমেদ ও কালচারাল ডিরেক্টর শফিকুল সিরাজুল হক। বই বিতরণ পর্ব পরিচালনা করেন সিনিয়র শিক্ষিকা সানজিদা বেগম।
সভাপতির বক্তব্যে স্কুল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোসতাক আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রিয়াদ বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করছে। সদ্য প্রকাশিত জেএসসি ও পিইসির পরীক্ষার অভূতপূর্ব ফলাফল সেটাই প্রমাণ করে। ২০২০সাল এই স্কুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের স্কুলে অর্থনৈতিক কোন ক্রাইসিস নেই। প্রতিমাসে স্কুলের মাসিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দুতাবাস এবং অভিভাবকদের হাতে দেয়া হয় যা বিদ্যালয়টির ইতিহাসে বিরল ঘটনা। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। পরে দূতাবাস থেকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পুরস্কার প্রাপ্ত স্কুলের সদ্য প্রয়াত বায়োলজী বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর ইদ্রিসুর রহমানের এবং স্কুলে একজন স্টাফের পিতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হাবীব নোমানী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী এহসানুল রাফিদ।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics