Tepantor

সীমাহীন দূর্নীতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে – পর্ব ১

12 August, 2022 : 3:25 pm

সীমান্ত খোকন: দালাল নির্ভর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস যেন দূর্নীতির আরেক নাম। প্রথমত, সেখানে প্রথমেই অফিসের কর্মকর্তাদের দ্বারা মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। কিভাবে ? পাসপোর্টের আবেদনকারীরা আবেদন করতে গেলে তারা আবেদন গ্রহন করেননা। আবেদন ফরমের সঠিক তথ্যকে ভুল দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হয়। উদাহরণ, “পেশা প্রাইভেট সার্ভিস কেন?”, “ইমেইল এড্রেস নিজের নয় কেন?” অথবা “ইমেইল এড্রেস ডাউনলোড করেন” এরকম হাজারটা অজুহাত তৈরি করেন তারা। এসব অজুহাত দেখিয়ে পাসপোর্ট প্রার্থীদের ফেরত দেন তারা। শুধু তাই নয়, যেসব কাগজপত্র আবেদনের সাথে লাগেনা সেসব কাগজ নেই কেন এই অজুহাতেও আবেদনপ্রার্থীকে ফেরত দেওয়া হয়, যেমন, বিদুৎ বিল পেপার, এনআইডির ফটোকপি দেওয়ার পরও এনআইডি ভেরিফায়েড কপি চাওয়া, এফিডেভিটপত্র দেওয়ার পরও অঙ্গিকারনামা চাওয়া ইত্যাদি। অথচ একই আবেদন,যেটি কিনা তাদের ভাষায় “ভুল” সেটিই আবার দালালদের মাধ্যমে হাসিমুখে গ্রহন করছেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। অফিসের কর্তারা যখন ভুল দেখিয়ে আবেদন ফিরিয়ে দিচ্ছেন তখন পাসপোর্ট আবেদনকারী নিরুপায় হয়ে কারো পরামর্শে দালালদের কাছে যান, তখন দালাল ওই ফরমে নিজস্ব চিহ্ন একে দিয়ে আবার অফিসে পাঠায় আবেদনকারীকে, তখন এটা গ্রহন করেন পাসপোর্ট অফিসের কর্তারা। বিনিময়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের পকেট থেকে পাসপোর্ট কর্মকর্তা, ডিএসবি পুলিশ ও দালালদের পকেটে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার টাকা। দালাল দিয়ে পাসপোর্ট করালে সরকারি খরচ ছাড়াও এই তিন শ্রেণীর মানুষের কাছে নিয়মিত টাকা খোয়াতে হচ্ছে এদেশের সাধারণ নাগরিককে। এক হিসেবে দেখা যায়, অর্ডিনারি (২১ কর্মদিবসে পাসপোর্ট পাওয়া) আবেদনের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয় ৫৭৫০ টাকা, কিন্তু এই পাসপোর্টের জন্য দালাল নিচ্ছে কম পক্ষে ১০,০০০ টাকা। বাকি ৪২৫০ টাকা যাচ্ছে ওই তিন শ্রেণীর পকেটে। এভাবেই একজন মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে। এনিয়ে বিস্তারিত থাকছে প্রতিবেদনের আগামী পর্বে।

মাঝে-মধ্যে র‌্যাব পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে কিছু দালালকে আটক করলেও পাসপোর্ট অফিসের কোন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বা কর্মচারিকে গ্রেফতার করা হয়না। তবে র‌্যাবের মতো এইটুকু কাজও পুলিশকে কখনো করতে দেখা যায়না। পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে এর চারপাশে দালাল চক্রের অফিস। পুলিশ চাইলে সহজেই তাদের আইনের আওতায় আনতে পারে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে এর বিরুদ্ধে কোন পুলিশি অভিযান চোখে পড়েনা। যদিও র‌্যাব কিছু দালাল আটক করার পর তারা দ্রুতই ছাড়া পেয়ে আবার এই ব্যবসায় জরিত হচ্ছে।

অবাক করা বিষয় হলো, পাসপোর্ট দালালদের সংগঠন আছে, সেই সংগঠনের সভাপতিও আছে। পাসপোর্ট অফিসে দালাল বিরুধী সাইনবোর্ড সাটানো থাকলেও মূলত পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারাই এসব দালাল লালন-পালন করেন। আর পাসপোর্ট অফিসের প্রসাশনিক কর্মকর্তার পদটিকে বা প্রসাশনিক কর্মকর্তাকেই পাসপোর্টের কালো বিরাল বলে বিবেচনা করছেন ভোক্তভুগীরা।

চলবে…

 

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array