Tepantor

মাসে দশ লাখ টাকা মান্থলি নেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাফিক পুলিশ -পর্ব ২

25 October, 2023 : 7:05 pm
ছবি: প্রতীকি।

মোস্তাফিজ চৌধুরী: রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রতি সিএনজি অটোরিকশা থেকে ৫০০ টাকা করে মাসিক চাঁদা নেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্র্যাফিক পুলিশ। যেটা স্থানীয় ভাবে সিএনজি চালক ও মালিকদের কাছে মান্থলি বা মান্থি হিসেবে বহুল পরিচিত। প্রায় দু’হাজার সিএনজি থেকে প্রত্যেক মাসে মোট দশ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এসবে তাদের সহায়তা করছে নির্দিষ্ট কিছু দালাল। যেটা সকলের কাছে ওপেন সিক্রেট। এটা হলো শুধু সিএনজি’র হিসাব। কিন্তু শহরে চলাচলকারী ব্যটারিচালিত অটোরিক্সার হিসাব আলাদা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির তথ্য মতে পুরো জেলায় প্রায় ৭ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে। তার মধ্যে জেলা শহর কেন্দ্রিক প্রায় চার হাজার সিএনজি চলাচল করে। যেগুলো আশপাশের উপজেলা সমূহের তথা আখাউড়া, আশুগঞ্জ,কসবা,বিজয়নগর,সরাইল ও নবীনগরের বিভিন্ন রুটে অসংখ্য স্থানে যাত্রী আনা নেওয়া করে যাচ্ছে। এই চার হাজারের মধ্যে প্রায় দু’হাজার সিএনজি অটোরিকশা ট্র্যাফিক পুলিশের কাছে মান্থি করা। বিভিন্ন সিএনজির চালক ও তাদের নেতাদের সাথে কথা বলে এবং প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে এই বিষয়টি স্পষ্ট  হওয়া গেছে।দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা শহর কেন্দ্রিক প্রত্যেক রুটে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশাকে জেলা ট্র্যাফিক পুলিশের নির্দিষ্ট একজন ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর অথবা ট্র্যাফিক উপসহকারী ইন্সপেক্টরের অধীনে মাসিক ৫০০ টাকা করে মান্থি করতে হয়। অন্যথায় তাদেরকে পড়তে হয় ট্র্যাফিক পুলিশের রোষানলে, পোহাতে হয় হয়রানি ও নির্যাতন। প্রত্যেক মাসের একটা নির্দিষ্ট তারিখে নগদে হাতে হাতে অথবা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে মাসিক চাঁদার এ টাকা পৌঁছে দিতে হয় ট্র্যাফিক পুলিশের কাছে। কোনো কারণে চাঁদার টাকা দিতে না পারলে আবারও পড়তে হয় তাদের রোষানলে। যার কারণে সিএনজি মালিক ও চালকেরা বাধ্য হন মাসিক এ চাঁদা তথা মান্থি দেয়ার জন্য।

প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে অর্ধ শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা মালিক ও চালকের সাথে যোগাযোগ করা হয়। যাদের সকলেই ট্র্যাফিক পুলিশের কোন না কোন অফিসারের কাছে মান্থি করে রেখেছেন। লালপুর-বিরাসার রুটে যাত্রী পরিবহনকারী এক সিএনজি মালিক ও চালক বলেন, আমাদের এই রুটে প্রায় তিনশত সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। যার মধ্যে প্রায় আড়াইশো সিএনজি অটোরিকশা ট্র্যাফিক অফিসারদের কাছে মান্থি করে রেখেছে। যে গাড়ির নাম্বার আছে সে গাড়ি প্রতি ৫০০ টাকা এবং অন টেস্ট (নম্বর ছাড়া) গাড়ি প্রতি ১০০০ টাকা। আমার দুটো গাড়ি আছে,দুটোই মান্থি করা। এক অফিসারের কাছে মান্থি করলে অন্য অফিসার গাড়ি আটকালে মান্থিকৃত অফিসারের কাছে ফোন লাগিয়ে দিলে আটককৃত অফিসার গাড়ি ছেড়ে দেন বলেও জানান সিএনজি অটোরিকশার মালিক ও চালকেরা।

বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজার স্ট্যান্ড এর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি বাহার জানান,আমাদের এখানে প্রায় পঞ্চাশটি সিএনজি রয়েছে। যাদের প্রায় প্রত্যেকটা ট্র্যাফিক পুলিশের কাছে মান্থি করা। গাড়ি প্রতি ৫০০ টাকা করে মান্থি দিতে হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মিজান বলেন, অনেক সিএনজি চালক আমাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শহরে গাড়ি নিয়ে গিয়ে যাত্রী পরিবহণ করে, তাদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ হয়তোবা ট্রাফিক পুলিশ নিচ্ছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি সিএনজি অটোরিকশা মালিক ও চালকদের একটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে আনছি।তাদের কাছে সিএনজি অটোরিকশার কোন চালক ট্রাফিকের কাছে মান্থি না করলে হয়রানির শিকার হতে হয় এরকম কোন অভিযোগ দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমাদের কাছে কোন অভিযোগ দেয় না। তবে বিভিন্ন অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে মান্থি করে থাকতে পারে।

চলবে..

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array