তেপান্তর রিপোর্ট: সংবাদ লিখা তো দূরের কথা নিজের নাম লিখতেই কলম ভাঙ্গে যার সে এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একজন সাংবাদিক। শুধু কি তাই, এক লাইন বাংলা লিখা পড়তেও হাঁপানি তৈরি হয় যার এমন গণ্ডমূর্খ ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সাংবাদিক পরিচয়ে। তার নাম রেজাউল, জেলা সদরের মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে সে। তার বাবা শহিদ মিয়াও ছিল নিকৃষ্ট সোর্স ও দালাল, এলাকাবাসীকে জ্বালিয়েছে তার বাবাও। বেশ কয়েক বছর আগে রহস্যজনক ভাবে ট্রাক চাপায় মারা যান শহিদ মিয়া। তবে তার ছেলে রেজাউল বাবার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সেও জ্বালায় গ্রামবাসীকে। ফলে তাকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছে গ্রামবাসী। রেজাউল পেশায় রাজ মিস্ত্রীর যোগালি হয়েও পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন অপকর্মের জন্য নিজ গ্রাম থেকে বিতাড়িত হওয়া রেজাউল বর্তমানে রাজমিস্ত্রীর যোগালি ছেড়ে দিয়ে সোর্সগিরী ও ঢাকার একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কার্ড টাকার বিনিময়ে কিনে রাতারাতি বনে গেছে সাংবাদিক। এখন সে সোর্সগিরীর পাশাপাশি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি অফিসে এখন নিয়মিত যাতায়াত তার। শুধু মৌখিক ভাবে নয়, তথ্য অধিকার আইনেও বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য জানতে চায় অফিসগুলোতে। এই কৌশলটি তার ধান্ধাবাজির অন্যতম হাতিয়ার। যদিও তথ্য অধিকার আবেদনের ফরমে ঠিকভাবে লিখতেই পারেনা সে, তাই এসব ক্ষেত্রে অন্যের সহযোগিতা নিয়ে থাকে। এসব অপকর্ম করতে গিয়ে রেজাউল গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে একাধিক বার। তার এসব বিষয় নিয়ে কোনো সাংবাদিক পত্রিকায় নিউজ করলে সাংবাদিকের নামে ঠুকে দেয় মামলা। ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক একুশে আলো ও দৈনিক তিতাস কণ্ঠ পত্রিকায় “রাজ যোগালি থেকে সাংবাদিক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করতে যায় সোর্স রেজাউল। যদিও মামলা জমা দেওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল একুশে আলোর সম্পাদক ও আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ ও পত্রিকাটির প্রতিবেদক হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ মোট ৪ সাংবাদিককে।
তার বিরুদ্ধে জঘন্য অপকর্মের যত অভিযোগ:
ভাতিজিকে ধর্ষণ, ইউএনও,র বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনতাইয়ের মামলা, কখনো গোয়েন্দা সংস্থা “এনএসআই”, কখনো সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা “ডিজিএফআই”, আবার কখনো গ্যাসফিল অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া, কারও সাথে পান থেকে চুন খসলেই মামলা ঠুকে দেওয়া ও থানায় অভিযোগ করে হয়রানি করা, লিখতে না জানলেও শুধু চাঁদাবাজি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক সেজে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বাইকের পিছনে নারী নিয়ে অবাধে ঘুরাফেরা, মুক্তিযুদ্ধাকে ফাঁসানোর চেষ্টা ও কম্পিউটার চুরি করা সহ অগণিত অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।ভাতিজিকে ধর্ষণ:২০২১ সালের ১৮ জুলাই রেজাউল ধর্ষণ করে তার এক ভাতিজিকে যে কিনা তার মেয়ের বয়সী ছিলো। ক্লাস নাইনে পড়ুয়া ওই কিশোরীর পরিবারকে মৎস্যজীবী কার্ড পাইয়ে দেওয়া ও সেলাই মেশিন কিনে দেওয়ার অজুহাতে পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে এই ঘটনায় আদালতে মামলা হলে রেজাউল নিজের ভিটে বাড়ি বিক্রি করে ভাতিজির পরিবারকে টাকা দিয়ে মামলাটি মীমাংসা করে নেয়। ধর্ষণের সেই ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এই ভিডিওটি রেজাউল নিজেই করেছিলো পরবর্তীতে ভাতিজিকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য।কয়েক বছর আগে নিজ গ্রাম বাকাইলের পার্শ্ববর্তী গ্রাম মৈন্দ’এ বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বিভিন্ন নারীদের নিয়ে নষ্টামিতে মগ্ন ছিলো সে। সেই সব নারীদের তার স্ত্রী ও স্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলো। কয়দিন পর পর এসব বাসা পরিবর্তন করার রীতি রয়েছে তার মধ্যে। সে যে-সব নারীদের সাথে কু-কর্ম করে তাদের সেই কর্মের ভিডিও ধারণ করে তার মোবাইলে রেখে দেয়। এছাড়াও শহর ও গ্রামে প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেলের পিছনে নারীদের বসিয়ে ঘুরাফেরা করতেও দেখা যায়। হোটেল রেস্তোরাঁ বা পার্ক, সবখানেই তাকে নারীদের সাথে দেখা যায়। নারীদের নিয়ে দরজার গ্লাস লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেয় তার কথিত অফিসেও। বাইরে থেকে যেন কেউ ভিতরে দেখতে না পরে সেজন্য গ্লাসের মধ্যে সাটানো হয়েছে সেই আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার ব্যানার। এর মাধ্যমে ভিতরে পরিবেশ না দেখানো ও একই সাথে পত্রিকার ব্যানারের মাধ্যমে নিজের প্রভাব দেখানো এই দুই-ই চলে।
ইউএনও’র বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা:
মোবাইল ‘ছিনতাই’ করার অভিযোগ এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে রেজাউল। চলতি বছরের ২৫ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়। তবে এই মামলায় রেজাউল নিজে বাদি হয়নি, সে বাদি বানিয়েছে আরেক অপসাংবাদিককে, যে কিনা সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে আশুগঞ্জের শরীফপুর ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাই খেয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেল খেটেছিল।
ইউএনও’র মামলার বিষয়টি ছিলো মূলত রেজাউলের একটি ষড়যন্ত্র। বিষয়টি বুঝতে পেরে ২৯ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয়) আদালতের বিচারক আসমা জাহান নিপা মামলাটি খারিজ করে দেন। পাশাপাশি মামলার বাদী এবং বাদী পক্ষের আইনজীবীকে মামলাটির জন্য তিরস্কার করেন।
চলবে…
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics