Tepantor

রেলওয়ের জমি দখল করে এক ডজন অস্থায়ী দোকান, হচ্ছে জলাশয় ভরাট

17 February, 2025 : 1:05 pm

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের রেলগেইট এলাকায় জেলা পরিষদ মার্কেট সংলগ্ন রেলওেয়ের খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে অস্থায়ী দোকানপাঠ নির্মাণ করেছে একটি চক্র।ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন এবং রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ি থেকে মাত্র দুইশো গজ দুরত্বে অবস্থিত দোকানগুলো যেন কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ছয় মাস আগে বিগত সরকার পতনের পূর্বে স্টেশন মাস্টারের নাম ভাঙিয়ে এই দোকানগুলো থেকে মাসিক হারে নিয়মিত ভাড়া তুলতেন রেলওয়ের এক কর্মচারী। এখন আর কেউ ভাড়া না তুললেও দখলদারদের দোকানগুলো আছে বহাল তবিয়তে। একই স্থানে রেললাইনের দক্ষিণ দিকে বিপরীত পাশের দোকানগুলো নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।সম্প্রতি ইট ভাঙা আর সুড়কি ফেলে গোপনে জলাশয় ভরাট করে দোকান ভিট বাড়ানোর চেষ্টা করছেন দোকান মালিক। তবে দক্ষিণ পাশের জলাশয় এবং এর সংলগ্ন জমি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছেন বলে দাবি করেন দোকানের মালিক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে রেললাইনের উভয় পাশে প্রায় বারোটির মতো অস্থায়ী দোকান রয়েছে। চায়ের দোকান,পান সিগারেটের দোকান,চটপটির দোকান,ডাবের দোকান,নার্সারিসহ রয়েছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। দোকানগুলোর মালিকদের মধ্যে রয়েছেন হানিফ মিয়া,আনার মিয়া,পারভীন আক্তার, জিহাদ মিয়া,জাকির মিয়াসহ আরও কয়েকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,এরা সবাই পারস্পরিক আত্মীয় এবং পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

পারভীন আক্তার এবং জাকির মিয়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জলাশয় ও এর সংলগ্ন জমি বাৎসরিক ৪৭,৯৯২ টাকা খাজনার হারে ইজারা নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে গোপনে ইটভাঙা ও সুড়কি দিয়ে জলাশয়টি ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির মিয়া বলেন,’ হাইকোর্ট ও জজকোর্ট বাইয়্যা এই জায়গার ইজারা পাইছি। আর ভরাটটা ভুলে কইরা ফালাইছি। আর ভরাট করতাম না।”

চটপটির দোকানের কর্মচারী জিহাদ মিয়া জানান,তার প্রতিদিনের বেতন তিনশো টাকা। সে চার বছর যাবত কর্মচারী হিসেবে আছে। দোকানের মালিক শিমরাইলকান্দির হানিফ মিয়া। চটপটির দোকান ছাড়াও হানিফ মিয়ার একটি চায়ের দোকানও রয়েছে। হানিফ মিয়ার ভাই এবং পাশের চা স্টলের মালিক আনার মিয়ার কাছে অবৈধ দখলদারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” এই জায়গা একসময় আমাদের বাপ দাদার ছিলো,রেলওয়ে আমাদের কাছ থেকে কিনে নেয়।পয়ত্রিশ বছর যাবত দোকানদারি করতেছি। আগে স্টেশন মাস্টাররে মাসে পাচশো করে দিতাম, সরকার পতনের পর আর দেই না।”

তরী বাংলাদেশের আহবায়ক, পরিবেশকর্মী শামিম আহমেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলক্রসিং সংলগ্ন রেল লাইন ও নিয়াজ মুহম্মদ স্কুল এর মধ্যবর্তী জলাশয়টি ধীরে ধীরে ভরাট করা হচ্ছে। আগে ১০ /১০ ফিটের মতো জায়গায় একটি দোকান ছিলো, পর্যায়ক্রমে ভরাট করা হয় ৫০ ফিটেরও বেশি জায়গা, সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে । পাশেই দুইদিন আগে নতুন করে রাবিশ ফেলে ১০/১২ ফিটের একটি ভিট তৈরি করা হয়েছে। জায়গাটি রেলের, এসব অবৈধ দখল ও ভরাট  নিয়ে রেলের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ রাখছে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন তরী বাংলাদেশ।”

স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে দোকানপাট নির্মাণ এবং পূর্বে ভাড়া তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মনবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জসিমউদদীন বলেন, ” আমি কখনো অবৈধভাবে কোন টাকা পয়সা ইনকাম করি না। আমার নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ চাদা তুলে থাকতে পারে। ইতিমধ্যে স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমি দখল করে গড়ে উঠা বৌ বাজার উচ্ছেদের জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। বাকী অবৈধ স্থাপনাগুলোও অচিরেই উচ্ছেদ করা হবে। ”

রেলের জমি বছরের পর বছর দখল হয়ে আছে কিন্তু দখলকৃত জমি উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন অভিযান নেই কেন জানতে চাইলে রেলওয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কানুনগো কাউসার আহমেদ বলেন, ” আমি সার্ভেয়ারকে বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলওয়ের যেসব জায়গা ইজারা দেয়া হয়েছে এবং যেগুলো দখল হয়ে আছে এগুলোর তালিকা নিচ্ছি। তালিকানুযায়ী দখলদারদের বিরুদ্ধে অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ”

 

কেএআই/এসকে/তেপান্তর

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array