মোঃ আব্দুল হান্নান: ছোট বোনকে ৫ম শ্রেণীতে ভর্তি করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের পিটুনি খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে নজরুল নামে এক ব্যাক্তি। গত ২৩ জানুয়ারি দুপুরে জেলার নাসিরনগর উপজেলার আতোকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
নজরুলের মা সায়েরা খাতুন কান্না জনিত কন্ঠে জানায়, বুড়িশ্বর ইউনিয়ন ছাত্র দলের সভাপতি মোঃ এনামূল হুদা সুমনের বড় ভাই এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা। তিনি নজরুলকে ঘুষি মেরে নাখের হাড় ভেঙ্গে ফেলেছেন। তাছাড়াও বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে তার ছেলের পিটে ও পায়ে মারাত্বক আহত করে পরনে থাকা কাপড় ছিড়ে ফেলেছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক তার ছেলেকে উল্টো মামলার ভয় দেখাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের মামলার ভয়ে তার ছেলে পালিয়ে গিয়ে পার্শবর্তী হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত নজরুল ইসলাম জানান, এবছর তার ছোট বোন সুরাইয়া বেগম গ্রামের একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল থেকে ৪র্থ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে আতোকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীতে ভর্তি হতে যায়। এ সময় প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা তার কাছে ভর্তি বাবদ ১ হাজার টাকা দাবী করে । প্রধান শিক্ষকের দাবীকৃত টাকা না দিলে ওই ছাত্রীকে ভর্তি না করে ঘুরাতে থাকে।
ঘটানার দিন নজরুল স্কুলে গিয়ে তার বোনকে কেন ভর্তি করা হচ্ছে না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষকের সাথে তার কথা কাটাকাটি ও বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে নজরুলের উপর চড়াও হয়ে নজরুলের নাকে ঘুষি মারে। প্রধান শিক্ষকের ঘুষিতে নজরুলের নাখের হাড় ফেটে যায়। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক নামজুল হুদা তার কোমরের বেল্ট দিয়ে নজরুলকে পিটিয়ে তার পিটে ও পায়ে মারাত্বক শুরুতর আহত করে। প্রতিবেশিরা দৌড়ে গিয়ে নজরুলকে প্রধান শিক্ষকের হাত থেকে উদ্ধার করে।
তারা আরো জানায়, পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক তার এক সহযোগি সহকারী শিক্ষাকর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে ফোন করলে, তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পুলিশের মাধ্যমে নিয়ে চলে আসেন।
ঘটনাটি দুঃখ জনক বলে জানান পুলিশের এস আই জুলুশ খান পাঠান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তা উম্মে সালমা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা আরো জানায় এই প্রধান শিক্ষক ২০১৭ সালে ও ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে তার গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দায়ে করেন। যা এখনো আদালতে চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics