তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়িতে ঢিল ছোড়াছুড়ি কে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে দু’টি পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাংচুর, মারপিট ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় দু’পক্ষেই প্রায়ই ১০ জনের মত আহত হয়। আহত বেশ কয়েক জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় শরীফ খন্দকার (৫০) নামে একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গত ১৯মে (বৃহঃস্পতিবার) সকালে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা গ্রামের খন্দকার বাড়িতে ঘটে।
এ ব্যাপারে গুরতর আহত শরীফ খন্দকারের ভাবী জোহরা বেগম বলেন, আমাদের প্রতিবেশী আলী খন্দকার ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের বাড়িতে কয়েকদিন যাবত পাথর, ইট ভাঙ্গা দিয়ে ঢিল ছুড়তেছিল। এই ব্যাপারে সাবেক মেম্বার এর নিকট বিচার প্রার্থী হলে তারা বুধবার রাতে বাজারে আমার দেবরকে আটকে রেখে মারধর করে তারা। এই ব্যাপারে স্থানীয়দের নিকট বিচার প্রার্থী হলে তারা শুক্রবার বিচার করবেন জানিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ তারা আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাদের ৪টি পরিবারের ঘর-বাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট চালায়। এ সময় তারা প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে আমার দেবর সহ কয়েকজনকে মারধর করতে থাকে। আহত শরীফ খন্দকার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি আছে।

তিনি আরো বলেন, তারা এলাকার বিত্তশালী ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের প্রতিহত করতে পুলিশ এবং আমাদের এলাকার মেম্বারদের কাছে সহযোগিতা চেয়েও আমরা কোন সহযোগীতা পাচ্ছি না। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, প্রায়ই ৬ বছর যাবত ঘাটুরা গ্রামের খন্দকার বাড়ির মৃত আনজু মিয়া ছেলে শরীফ খন্দকার ২ শতাংশ বিটেবাড়ির যায়গা নিয়ে প্রতিবেশী মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মুহাম্মদ আলী খন্দকারের বিরোধী চলছিল। এসব ব্যাপার নিয়ে স্থানীয় বাজারে শরীফ খন্দকারের সাথে মুহাম্মদ আলী খন্দকারের ও তার পরিবারের লোকদের সাথে হাতাহাতি হয়। পরে ও-ই দিন রাতে মুহাম্মদ আলী খন্দকারের ছেলে হাকিম খন্দকার ও ভাগিনা বিল্লাল খন্দকারসহ ১৫-২০ জন শরীফ খন্দকারের বাড়িতে হামলা করেন৷ অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষের ৪জন আহত হয়েছে বলে মুহাম্মদ আলী খন্দকারের পরিবার দাবি করেন। তারাও সঠিক বিচারের দাবি করেন।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, ‘গ্রামবাসী ও দু’পক্ষের লোকজন উপরোক্ত ঘটনার মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন। দ্রুত বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে। আপাতত এলাকাবাসী ও দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে কোন ধরণের সহিংসতা নেই। যদি এ বিষয় নিয়ে বাড়তি কিছু দেখি তাহলে আইনী ভাবে দমন করা হবে। সহিংসতা এড়াতে দু’পক্ষের লোকদেরকে পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে সদর থানায় পৃথক ২’টি মামলা জমা হলেও স্থানীয় মেম্বার বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে বলে মামলা গুলো রুজু হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এএ/এসকে
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics