গলিত রেনিটিডিন ট্যাবলেট। ছবি: তেপান্তর
তেপান্তর রিপোর্ট: হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনেক ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট ‘রেনিটিডিন।’ এ্যালবিয়ন কোম্পানির এই ঔষধটি খেয়ে সস্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নাসির নামে এক ব্যাক্তি। একই সাথে সেই ট্যাবলেটগুলো প্যাকেটের ভিতর থাকা অবস্থাতেই গলে যাওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে তাদের। নাসির সদরের চন্ডারখিল(নয়ন পুর) গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে।
অসুস্থ হওয়ার পর বুধবার নাসির এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি ৩ দিন আগে নয়নপুরের মার্জিয়া নূর মেডিকেল কর্ণারে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য গেলে ডাক্তার তাকে রেনিটিডিন ট্যাবলেট দেন। তারপর তিনি সেই ট্যাবলেট দুই বেলা খাওয়ার পর অসুস্থ বোধ করেন। তার মাথা ব্যাথা ও পেট ব্যাথা শুরু হয়। তখন তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তারপর প্যাকেটের ভিতরের বাকি ট্যাবলেট গুলো খুলে দেখেন সে গুলো গলে গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঔষধ ফার্মেসীর (মার্জিয়া নূর মেডিকেলে কর্ণার) চিকিৎসককে দেখালে তিনি এর কোন সদোত্তর দিতে পারেননি।
মার্জিয়া নূর মেডিকেল কর্ণারের চিকিৎসক শওকত আলি তেপান্তর কে বলেন, ঔষধের মেয়াদ থাকা সত্বেও কেন ঔষধ গলে গেলো এটা আমি জানিনা। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ছাতিপট্রির চীপ ফার্মেসী থেকে এই ঔষধ গুলো কিনেছি।
এবিষয়ে চীপ ফার্মেসীতে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঔষধ কোম্পানি থেকে তারা ঔষধ কিনেছেন। এ বিষয় তাদের কোন দায় নেই বলে জানান চীপ ফার্মেসীর কর্তৃপক্ষ। তারা আরো জানান, রেনিটিডিন নিষিদ্ধ হলেও কোম্পানির লোকেরা গ্রাম-গঞ্জে দেধারছে বিক্রি করছে।
এদিকে সয়ং চীপ ফার্মেসীই গত ২৭ অক্টোবর রেনিটিডিন ট্যাবলেট কিনে রাখার প্রমান পাওয়া গেছে। বিক্রি করেছে এস কে ড্রাগ হাউস। এই অবৈধ ঔষধ কেনা-বেচার একটি ইনভয়েস তেপান্তরের হাতে আছে।
এ বিষয়ে ঔষধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভৈরবের এস কে ড্রাগ হাউসের মালিক চন্দন পাল তেপান্তরকে বলেছেন, হাইকোর্ট নিষিদ্ধ হবার পর রেনিটিডিন আর বিক্রি করছিনা। যেগুলো বাজারে আগের আছে সেগুলো ফেরত নেওয়া হবে। তবে এতে কেউ অসুস্থ হবার কথা নয়। কেউ অসুস্থ হলে সেটা কোম্পানি বুঝবে। আমি শুধু বিক্রি করি। তবে গ্রাম-গঞ্জে বা যেকোন জায়গায় এই ট্যাবলেট বিক্রির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics