তেপান্তর রিপোর্ট:
রপ্তানি আয়ের শ্লথগতি এবং আমদানিতে বাড়তি ব্যয়ের চাপে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (বিওপি) সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার বাণিজ্য ঘাটতি ১৫.৬৩ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৭৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই-নভেম্বর সময়ে ২ হাজার ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬.১ শতাংশ বেশি। বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৮১৮ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৬ শতাংশ। আমদানি ও রপ্তানি আয়ের এই বিশাল ব্যবধানই বাণিজ্য ঘাটতিকে ৯ বিলিয়ন ডলারের উপরে নিয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের চড়া দাম এবং রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স), যা বর্তমানে ৭০ কোটি ডলারের ঘাটতিতে রয়েছে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো রেমিট্যান্স ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রবাসীরা ১ হাজার ৩০৪ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া এফডিআই ৪০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৬৫ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র এখনো নেতিবাচক; এই সময়ে বাজার থেকে প্রায় ৭ কোটি ডলার নিট বিনিয়োগ বেরিয়ে গেছে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics