তেপান্তর আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরসূরি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির জিনতান শহরে নিজ বাসভবনে একটি সশস্ত্র কমান্ডো ইউনিটের হামলায় ৫৩ বছর বয়সী সাইফ নিহত হন। বুধবার সকালে লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘লিবিয়ান নিউজ এজেন্সি’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাইফের আইনজীবী জানান, চার সদস্যের একটি পেশাদার ‘কমান্ডো ইউনিট’ জিনতানে সাইফের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোন গোষ্ঠী বা দেশ জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে তার বোনের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি জানান, সাইফ আলজেরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় নিহত হয়েছেন।
১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম এক সময় লিবিয়ার ‘সংস্কারপন্থী মুখ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০০ সালের পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগে তার মুখ্য ভূমিকা ছিল। তবে ২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর তার ভাগ্য বদলে যায়। আন্দোলন দমনে সহিংসতার অভিযোগে ২০১৫ সালে লিবিয়ার একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর জিনতানের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাইফকে প্রায় ছয় বছর বন্দি করে রাখে। মুক্তি পাওয়ার পর ২০২১ সালে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনরায় আলোচনায় আসেন, যদিও সেই নির্বাচন আর আলোর মুখ দেখেনি।
লিবিয়ার রাজনীতিতে এখনো যথেষ্ট প্রভাব রাখা সাইফ আল-ইসলামের এই মৃত্যু দেশটির ভঙ্গুর স্থিতিশীলতাকে নতুন করে সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। লিবিয়া সরকার এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics