আশরাফুল মামুন;অনিয়ম দূর্নীতি সহ নানা অভিযোগে আখাউড়া নাছরীন নবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ হাসিনা আক্তার কে অন্যত্র বদলির জন্য সুপারিশ করেছে অত্র উপজেলা শিক্ষা কমিটি। সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কমিটির মাসিক মিটিং এ এই বিষয়ে একটি রেজ্যুলেশন তৈরী করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে নাছরীন নবী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এস এম আবদুল্লাহ মনসুর হাসিনা আক্তারের অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এর দপ্তর সহ জেলা প্রাঃ শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস এম আব্দুল্লাহ মনসুর অভিযোগ করেন,১৯ বছর ধরে আখাউড়া নাছরীন নবী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন হাসিনা আক্তার। দীর্ঘ সময় একই স্কুলে থাকার সুবাদে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম করেছেন প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার। পরীক্ষায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন তিনি । এছাড়াও তিনি এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন ন।
গত ২২ মে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তারের বিষয়ে অভিযোগ সম্পর্কে পূর্ব নির্ধারিত আলোচনা হয়। সভার রেজুলেশন অনুযায়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুরাদ হোসেন, নাছরিন শফিক আলেয়া, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হাসিনা আক্তারক বদলির ‘সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হয় বলে রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এক অভিভাবকের কাছ থেকে আট ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নেওয়ার কথা ও বরাদ্দ না পেয়ে টাকা আত্মসাতের মতো অবাস্তব এবং কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে যার কোন ভিত্তি নেই। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ৮ ভরি স্বর্ন জন অভিবাবক কেন আমাকে কোন লোভে দিবেন? যখন গত ২০২১ -২২ অর্থ বছরে কোন সরকারি অর্থ ব্যাংক এ্যাকাউন্টে আসেনি তখন অর্থ আত্মসাত করার তো কোন প্রশ্নই আসে না। মূলত পছন্দের একজন প্রধান শিক্ষককে এখানে পদায়ন করতে এটা করা হচ্ছে।
এ সময় নিজ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা করোনাকালীন নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় ব্যবস্থা নেওয়া ও প্রতিবাদ করায় তার পিছু লেগেছে বলেও অভিযোগ করেন। মসজিদ পাড়া একজন শিক্ষিকা রয়েছেন তিনি স্কুলে হাজিরা দিয়ে ক্লাস না করেই বাসায় চলে যান। তাছাড়াও বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নাইট গার্ড মোঃ শওকত মিয়ার গাফিলতি তে চুরি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ায় সম্মিলিত ভাবে তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় শিক্ষিকা হাসিনা আক্তার কে বদলির বিষয়ে সভার সিদ্ধান্ত যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics